যশোরে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ তিন সদস্য আটক ছয় জনের নামে মামলা

Share

যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে পুরোনো ল্যাপটপ বিক্রির কথা বলে এক মাছ ব্যবসায়ী ও তার চাচাতো ভাইকে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি এবং নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. আশিক সরদার (২৩), তিনি নড়াইল জেলার কালিয়া থানার পূর্বকলিয়া গ্রামের মো.জাহিদুল সর্দারের ছেলে।
এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল রশিদ রাজা (৩৫),একই এলাকার মো. ফজলুর রহমানের মেয়ে মোছা. বৃষ্টি (২৫) খুলনা; মো. রহমান খান, খুলনা প্রেস ক্লাবের বিপরীত পাশে দশতলা ভবনের দ্বিতীয় তলা, সদর খুলনার জাহিদুর রহমান খানের মেয়ে তাসনিয়া রহমান জারা (১৮), যশোর সদরের চাঁচড়া (কলোনীপাড়া নদীর পাড়), আব্দুস সামাদের ছেলে মো: রনি (২৮),
বানিয়াবহ রুদ্রপুর গ্রামের হানিফের ছেলে মোঃ তৌহিদ এবং নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের আরিফ ভূঁইয়ার ছেলে রহমত ভূঁইয়া (২৫)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারীর একটি পুরোনো HP Dragonfly G2 মডেলের ল্যাপটপ ছিল, যার আনুমানিক মূল্য ৩৯ হাজার টাকা। ল্যাপটপটি বিক্রির জন্য তিনি অভিযুক্ত রহমত ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তার কথামতো চাচাতো ভাই মো. স্মার্টকে সঙ্গে নিয়ে ৬ আগস্ট বিকেলে ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন-২ মোটরসাইকেলে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন।
অভিযোগে বলা হয়, যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় পৌঁছালে এক অভিযুক্ত তাদের নিয়ে সড়াপোল গ্রামের কলাবাগান এলাকার একটি স্থানে যান। সেখানে আগে থেকেই অন্য অভিযুক্তরা অবস্থান করছিলেন। পরে অভিযোগকারী ও তার চাচাতো ভাইকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সেখানে অভিযুক্তরা ধারালো চাকু প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগকারীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, ভয়ে তার কাছে থাকা ৭ হাজার টাকা এবং চাচাতো ভাইয়ের কাছে থাকা ৪ হাজার টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পুরোনো HP Dragonfly G2 ল্যাপটপ, একটি ডিজিটাল হাতঘড়ি এবং ব্যবহৃত ইয়ামাহা এফজেড-এস মোটরসাইকেলও নিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে অভিযুক্তরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আরও ১ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে অভিযোগকারী সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি তার চাচাতো ভাইকে ফোন করে বিষয়টি জানান। চাচাতো ভাই তাকে মনিহার মোড়ে নিয়ে আসেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগকারী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।

Read more