যশোরে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলে গিয়ে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিযোগের মুখে এএসআই আশরাফুল

Share

যশোর প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে টাকা দাবি, মালামাল নিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগ করেছেন উপজেলার নারাঙ্গালী গ্রামের আসাদুজ্জামান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই আশরাফুল আলম। তাঁর দাবি, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করতে গিয়ে আসামির আপন ভাই আসাদুজ্জামান এবং গ্রেফতারের পর আসামি রেজাউল করিমের দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
আশরাফুল আলমের আরও দাবি,অভিযোগকারীর মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও মোটরসাইকেলের চাবিসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ঝিকরগাছা থানার সাধারণ ডায়েরি নং১১১৯, তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৬-এর মূলে থানায় জব্দ রয়েছে।
এএসআই আশরাফুল আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়ে পরোয়ানায় উল্লেখিত আসামি রেজাউল করিমকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও তিন কনস্টেবল রেজাউল করিমের ঝিকরগাছা পৌরসভার কৃষ্ণনগর এলাকার বাড়িতে যান। তবে সেখানে আসামিকে পাওয়া যায়নি।
আসামিকে বাড়িতে না পেয়ে ফেরার সময় তাঁর আপন ছোট ভাই আসাদুজ্জামান আসামিকে গ্রেফতার না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং অনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেন এএসআই আশরাফুল। তবে তিনি আইনবহির্ভূত কোনো প্রস্তাবে রাজি হননি বলে জানান।
এএসআই আশরাফুল আরও জানান, একই দিন ২৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রেজাউল করিম নিজ এলাকা ঝিকরগাছা থানার নারাঙ্গালী বাজারের একটি চায়ের দোকানে চা পান করছেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে বিধি অনুযায়ী তাঁকে ঝিকরগাছা থানার হাজতখানায় রাখা হয়।
আশরাফুলের দাবি, রেজাউল করিমকে গ্রেফতারের সময় এবং তাঁর ভাই আসাদুজ্জামান গ্রেফতারের পরে তাঁকে টাকা-পয়সা দেওয়ার কথা বলে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে টাকা দাবি, মালামাল নিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, আসাদুজ্জামানের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে কক্ষ তল্লাশি করে। পরদিন সকালে থানায় গেলে এএসআই আশরাফুল আলম তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর পকেটে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এএসআই আশরাফুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামির কাছে থাকা মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মালামাল তাঁর ভাইয়ের কাছে দিতে চাইলেও তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে মালামালগুলো ঝিকরগাছা থানার সাধারণ ডায়েরি নম্বর ১১১৯, তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৬-এর মূলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় জব্দ অবস্থায় রাখা হয়েছে। অবৈধভাবে কোনো মালামাল আটক বা আত্মসাৎ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের অপরাধী তথ্য পর্যালোচনা অনুযায়ী, আসামি রেজাউল করিমের নামে তিনটি মামলা রয়েছে। এগুলো হলো—১. সিআর মামলা নম্বর ২৭০/২৬, তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬/৫০৬(২) দণ্ডবিধি। ২. চৌগাছা থানার মামলা নম্বর ১০/১৩৯, তারিখ ৭ জুন ২০২২। ৩. ঝিকরগাছা থানার মামলা নম্বর ১৯/২১, তারিখ ১৮ মে ২০১৯, ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৫৪/৪২৭/৩৮০/৫০৬/১১৪ দণ্ডবিধি, ১৮৬০।
এ ছাড়া আসামির ভাই আসাদুজ্জামানের নামেও একটি মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেটি হলো ঝিকরগাছা থানার মামলা নম্বর ১৯/২১, তারিখ ১৮ মে ২০১৯, ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৫৪/৪২৭/৩৮০/৫০৬/১১৪ দণ্ডবিধি, ১৮৬০।

Read more