যশোরে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক মামলায় আ: লীগ সম্পাদক সহ তিনজন আবারো গ্রেপ্তার

Share

যশোর প্রতিনিধি 
যশোরে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা পৃথক মামলায় বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আলী তিনি মালঞ্চী গ্রামের মৃত আমীর আলীর ছেলে। অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম (৫০) উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক এবং সিংহলপুর গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে। অপর আসামি রইচ ইসলাম লাবীব বাঘারপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা ও মহিরণ গ্রামের জহুরুল ইসলাম বিপুলের ছেলে।
পুলিশের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম ও মো. হাসান আলীর বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(বি) ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮-এর ৩/৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে রইচ ইসলাম লাবীবের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫(ডি) ধারায় মামলা রয়েছে। মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, বোমাবাজি ও বিভিন্ন সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। রইচ ইসলাম লাবীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ফেস্টুন-ব্যানার তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে গ্রেপ্তার আসামিদের জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত সূত্রে জানা যায় তারা তিন জন বিশেষ ক্ষমতা আইনের  অন্য পৃথক মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। জামিনে মুক্তি পায় পরে তাদেরকে আবারো আটক করে ডিবি পুলিশ।

Read more