যশোর অফিস
যশোরের সদর,বাঘারপাড়া ও ঝিকরগাছা উপজেলায় পৃথক সহিংস ঘটনায় সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় এক বৃদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারের মুন্সেফপুর মোড়ে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেতা মোদাচ্ছের হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, রনি নামে এক ব্যক্তি লোহার পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার তেঘরী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন আহত হন। আহতরা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের আসলাম (৫০), তার স্ত্রী তৃষ্ণা (৪০) ও মেয়ে জুবাইয়া (২৫)। অভিযোগ রয়েছে, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে চাচাতো দেবর শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কাঠের টুকরা দিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে,যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকার বাসিন্দা আছমা খাতুন (৬৪) কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করে জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে একই এলাকার কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও হয়রানি করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে,গত ২৬ জুলাই সকালে কাপড় শুকানোর দড়ি ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তার পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমকে মারধর এবং ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর কাগমারি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে রুপা খাতুন (৩৪) আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, একই গ্রামের মুকুল ও নুর নবী ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোর শহরের ঢাকা রোডের কদমতলা এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের কাওচির আঘাতে আজিম বিশ্বাস (৩৮) গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, তার চাচাতো ভাই আরিফ ধারালো কাওচি দিয়ে তার পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।