ঝিকরগাছার নাভারণে মসজিদের নির্মাণ কাজে বিএনপি নেতার বাধা, মুসল্লিদের ক্ষোভ

Share

যশোর অফিস 
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সদ্য বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। ২৫ দিন ধরে ওই মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এনিয়ে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ইসমাইল হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার ৭ নম্বর নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১ নং সদস্য বলে দাবি করেন। অথচ যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ দেলোয়ার হোসেন খোকন সাংবাদিকেদের জানান নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির কোন কমিটি নেই।
স্থানীয় ও মুসল্লিরা জানান, জায়গা সংকটের কারণে রোদ ও বর্ষায় ভিজে অনেক কষ্ট করে গ্রামের মুসুল্লিরা প্রতি জুম্মায় নামাজ আদায় করে। এ নিয়ে কয়েকটি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের সঙ্গে আলোচনা করেন মসজিদ কমিটি। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ বর্ধিতকরণ কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মসজিদ কমিটি সিন্ধান্তে সরকারি সহায়তা, মুসল্লি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দান-অনুদানের টাকায় মসজিদটি বর্ধিতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী সিমেন্টের খুঁটি ও টিন অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী এনে কাজ শুরু করা হয়।
কিন্তু তাতে বাঁধ সাধে সদ্য বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী ইসমাইল হোসেন। তার দাবি, মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ করতে হলে তার অনুমতি বাদে করা যাবে না। একথা বলেই সিমেন্টের দুটি খুঁটি লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলেন। পরে বিষয়টি মসজিদ কমিটির সভাপতি ইব্রাহীম খলিল নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও উপজেলা বিএনপির সদস্য নুরুজ্জামান কনককে জানায়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সমাধান না হলে যেকোন মুহুর্তে গ্রামে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে মুসল্লিদের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি ইব্রাহীম খলিল জানান, আমাদের মসজিদটি জায়গা সংকট হওয়ায় অনেক কষ্ট করে চাঁপাচাপি করে গ্রামের মুসুল্লিরা প্রতি জুম্মায় নামাজ আদায় করে। গত ৩ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মুসুল্লিদের সঙ্গে মসজিদ কমিটি আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে বর্ধিতকরণ কাজের উদ্যোগ নিই। সে অনুযায়ী সিমেন্টের খুঁটি, টিন এনে কাজ শুরু করলেই হঠাৎ আমার দুলাভাই বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন তাতে বাধা দেন। এসময় তিনি সিমেন্টের দুটি খুঁটি লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলেন। এসময় আমি বাঁধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাকে তেড়ে মারতে অসেন। তার অনুমতি বাদে মসজিদের বর্ধিতকরণ কাজ করা যাবে না। পরে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ইসমাইল দৌড়ে তার ঘরের মধ্যে চলে যান। দুদিন পরে ইসমাইল গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী লাল্টুসহ ১০-১২ জনকে ডেকে নিয়ে বলেন মসজিদের কাজ এখানে করতে দেওয়া হবে না। পরে আমি বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে অবহিত করি। এরপর ইসমাইল আমাকে বলেন বিএনপি নেতাদের জানিয়ে কোন লাভ হবে না। কনক হাজি যে মাপের নেতা আমিও সে মাপের নেতা। কনক হাজি আমার কি বিচার করবে। সেই থেকে আমাদের মসজিদটির বর্ধিতকরণ কাজ প্রায় ২৫ দিন বন্ধ রয়েছে।
ইব্রাহীম খলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন- মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর, একটি পবিত্র স্থান। ইসমাইল হোসেন এতো বড় একটা অপরাধ করলো গ্রামের কেউ এর প্রতিবাদ করলো না। আমি মসজিদ কমিটি থেকে পদত্যাগের সিন্ধান্ত গ্রহন করেছি।
স্থানীয় জুয়েল বলেন- ইসমাইল হোসেন বিএনপি নেতা। সেই দাপট দেখিয়ে তিনি মসজিদের কাজ করতে দিচ্ছেন না।
ইসমাইল হোসেন বলেন- কনক হাজি যে মাপের নেতা আমিও সেই সে মাপের নেতা।
এবিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন- নাভারণ ইউনিয়নে বিএনপির কোন কমিটিই নেই। ইসমাইল হোসেন নামে নাভারণে কোন বিএনপি নেতাকে আমি চিনি না। তিনি আরও বলেন- মসজিদ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিএনপি পরিচয় দিয়ে কেউ মসজিদের কাজে বাধা প্রদান করলে অভিযোগ পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করেবো।

Read more