যশোর হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ, প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

Share

যশোর প্রতিনিধি 
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজন কুমার শিকদার তার পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজন কুমার শিকদার বলেন, তার বাবা সুবল শিকদার দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক এওয়াজ বদলের মাধ্যমে প্রাপ্ত জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রথমে কাঁচা ঘর নির্মাণের পর প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ওই জমি কিনতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন কৌশলে তার চাচার কাছ থেকে জমিটি অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করান। এরপর গত ২২ এপ্রিল বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম, মিঠু, বিল্লালসহ ২০-৩০ জন তার বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেন। এ সময় ঘরের জানালা ভাঙচুর এবং আসবাবপত্র রাস্তায় ফেলে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সুজন আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় পরে তারা আবার বাড়িতে উঠলেও বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হয়নি। গত ২২ জুন পুনরায় গোলাম মোস্তফা, শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে মারধর ও উচ্ছেদ করেন। বাধা দিতে গেলে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকেও হুমকি দেওয়া হয় এবং একই দিনে একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন কুমার শিকদার বলেন, গত ২২ জুন থেকে তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই কি আমাদের উচ্ছেদ করা হলো?”
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং তাদের বসতভিটায় পুনরায় বসবাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজন কুমার শিকদারের বাবা সুবল শিকদার, মা ইছামতি শিকদার ও স্ত্রী সুস্মিতা সিকদার।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার আওতাধীন ফুল বাড়ি ফাঁড়ির আইসি উপ পরিদর্শক (এসআই) শুভ কুমার রায় জানান এ ঘটনা নিয়ে ইতি পূর্বে সে আমার কাছে এসেছিল যেহেতু এটা জমিজমা সংক্রান্ত ব্যাপার আমি তাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এখনো পর্যন্ত তিনি কোন লিখিত অভিযোগ দেয় নাই বা আমরা হাতে পাই নাই। লিখিত অভিযোগ পেলে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিব পুলিশ সংশ্লিষ্ট বিষয় যদি থাকে সেটা আমরা অবশ্যই দেখবো।

Read more