যশোরে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু

Share

যশোর অফিস 
যশোরের মনিরামপুর, চৌগাছা ও কেশবপুর উপজেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় এক যুবক, এক কিশোর ও আরেক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন, বিষপানে একজন এবং গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের আটমাইল এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে গিয়ে মাহিম হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।। তিনি উপজেলার ভোজগাতী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি থেকে কুয়াদা বাজারে যাওয়ার পথে আটমাইল এলাকায় পৌঁছালে মাহিম মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাকা সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যশোরের চৌগাছায় বিষপানে অসুস্থ হওয়ার পাঁচদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মৃত লিমন চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের রিপন আলীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে অভিমান করে বিষপান করেন লিমন। অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে বমি শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ঘটনায় যশোরের চৌগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এদিকে,কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বড়েঙ্গা গ্রামে সাগর খান (২৫) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই গ্রামের আব্দুস সালাম খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাগর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগ ও মস্তিষ্কজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন চিকিৎসকের পাশাপাশি কবিরাজের চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। এর আগে তিনি দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। শনিবার ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ শয়নকক্ষের বাঁশের আড়ার সঙ্গে নাইলনের রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে মরদেহ নিচে নামান।
খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

Read more