বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কারা এগিয়ে

Share

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে দলটির প্রার্থী নির্বাচন।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যেই সংরক্ষিত আসনে দলের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করতে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে বিএনপি জোটের ভাগে এবার ৫০টির মধ্যে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দলটির নারী নেতৃত্ব বিকাশে এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজপথের ত্যাগী নেত্রী, শিক্ষিত পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ তালিকা তৈরির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী ৭ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

নির্বাচন কমিশনের আরপিও (রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার) অনুযায়ী, দলগুলো সাধারণ নির্বাচনে যতটি আসন পায়, তার আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত ৫০টি আসন বণ্টিত হয়। এই সমীকরণ অনুযায়ী, বিএনপি ও তার মিত্রদের ভাগে এবার অন্তত ৩৫টি আসন নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন শেষ করতে হলেও সংসদীয় কার্যক্রমের গতিশীলতা রক্ষায় পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ঈদের আগে গেজেট প্রকাশ করতে চায় ইসি। এই ৩৫টি আসনে দলীয় প্রার্থী হতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ও পেশাজীবী ফোরামের কয়েকশ নেত্রী জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এবার সংরক্ষিত আসনের বণ্টন হবে বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগ এবং আগামীর ‘স্মার্ট পার্লামেন্ট’ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে।
এবারের নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাঠে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল দেখার মতো। ২৯৯টি আসনের বিপরীতে মোট ৮৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যার মধ্যে সাতজন সরাসরি ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। এই সাতজনের মধ্যে ছয়জনই বিএনপির মনোনীত এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এখন সংরক্ষিত ৫০টি আসন যুক্ত হলে ৩৫০ সদস্যের জাতীয় সংসদে মোট নারী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭ জনে।

অর্থাৎ, আগামী সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব হবে মোট আসনের প্রায় ১৬ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকদের মতে, এই ১৬ শতাংশ নারী সদস্যের উপস্থিতি আইন প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণী বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে সরাসরি নির্বাচিত সাত নারীর পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে আসা ৩৫ জন বিএনপি নেত্রী যখন সংসদে কথা বলবেন, তখন তা নারী নীতি এবং সামাজিক অধিকার আদায়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় বিতর্ক এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞদের কোনো বিকল্প নেই। এই তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। বরিশাল থেকে মনোনয়নবঞ্চিত এই প্রবীণ নেত্রী দলের দুর্দিনের কাণ্ডারী হিসেবে পরিচিত। যদিও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই নেত্রী সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হতে চান না।

তালিকায় আরও রয়েছেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, রাজপথের লড়াইয়ে যার অবদান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং নেত্রী শিরিন সুলতানার নামও জোরালোভাবে আলোচনায় আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, যারা দুঃসময়ে দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করাই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এবারের সরকার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ‘পারফরম্যান্স ওয়ান্টেড’ বা কর্মদক্ষতা নির্ভর। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি এবার যে ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে, তা কেবল সংখ্যার হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তনের সূচক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির জন্য এবারের সংরক্ষিত আসনগুলো কেবল দলীয় নেত্রীদের পুনর্বাসনের জায়গা নয়, বরং এটি একটি ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা শক্তিশালী সংসদীয় দল গঠন করার মোক্ষম সুযোগ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি, তাই সংসদে এমন নারী নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা যুক্তি ও তথ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারবেন।

এবারের সংরক্ষিত আসনের তালিকায় একটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দলের বর্ষীয়ান নেতা ও বর্তমান সরকারের মন্ত্রীদের সহধর্মিণীদের নাম, যারা নিজেরাও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই তালিকায় আলোচিত হচ্ছেন অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ এবং রুমানা মাহমুদ। হাসিনা আহমদ সাবেক এমপি এবং বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী; তিনি নিজেও এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দক্ষ সংগঠক। একইভাবে সাবেক মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে দলের হাল ধরে রেখেছেন।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নেত্রীরা কেবল পারিবারিক পরিচয়ে নয়, বরং নিজ নিজ এলাকায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং প্রতিকূল সময়ে নেতৃত্ব দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী, আগামী সংসদকে একটি আধুনিক ও মেধাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পেশাজীবীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম এবং ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। রাশনা ইমাম একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে মানবাধিকার এবং আইনি জটিলতা মোকাবিলায় দক্ষ। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা ফারজানা দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছেন এবং রাজপথে লড়াকু ভূমিকা রেখেছেন।

সংসদীয় পরিবেশে বৈচিত্র্য আনতে এবং দেশের সাধারণ মানুষের সাথে সাংস্কৃতিক সংযোগ বাড়াতে এবার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখদের মনোনয়নের জোর গুঞ্জন রয়েছে। তালিকায় সামনের সারিতে রয়েছেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন এবং কনক চাঁপা। বেবী নাজনীন দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে কাজ করেছেন। কনক চাঁপা গত নির্বাচনেও দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এবং রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে শাহনাজ পলির নামও আলোচনায় আছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণা, জনপ্রিয় এই মুখগুলো সংসদে থাকলে সাধারণ মানুষ রাজনীতির প্রতি আরও আগ্রহী হবে এবং দলের আদর্শ প্রচার সহজতর হবে।

এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকায় সবচেয়ে আবেগঘন এবং মানবিক নাম হলো সানজিদা ইসলাম তুলি। গুম হওয়া নেতাদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক হিসেবে তিনি দেশ-বিদেশে মানবাধিকার রক্ষায় পরিচিত মুখ। সরাসরি নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের কাছে হেরে গেলেও তুলিকে অনেকে সংরক্ষিত আসনে হলেও সংসদে চাইছেন। তাকে সংসদে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক বড় স্বীকৃতি হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আলোচনায় আছেন সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুখ ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবং সাবিরা সুলতানা। প্রিয়াঙ্কা একাদশ নির্বাচনে কনিষ্ঠতম প্রার্থী হিসেবে সাড়া ফেলেছিলেন। পাশাপাশি আলোচনা চলছে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইনকে নিয়ে, যিনি ‘অর্পণ আলোক সংঘ’-এর মাধ্যমে অসহায় নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বিএনপির আগের সংসদগুলোতে যারা রাজপথের আন্দোলন এবং সংসদের ভেতর তুখোড় বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতাকে এবারও কাজে লাগাতে চায় দল। এই তালিকায় রয়েছেন শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং রেহেনা আকতার রানু। তারা অতীতে সংসদের ফ্লোরে সরকারি দলের ভুলত্রুটি তুলে ধরতে এবং জোরালো বক্তব্য রাখতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দলের অনেক তৃণমূল কর্মীর মতে, সংসদে বিরোধী শক্তি বা অভ্যন্তরীণ সমালোচনার গঠনমূলক জবাব দিতে পাপিয়া বা মনির মতো বাগ্মী নেত্রীদের বিকল্প নেই। তাদের সংসদীয় রীতিনীতি সম্পর্কে জ্ঞান নতুন প্রজন্মের সংরক্ষিত নারী এমপিদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দলের প্রতি অনুগত এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের মূল্যায়ন করতে এবার তালিকায় স্থান পাচ্ছেন কয়েকজন হেভিওয়েট উত্তরসূরি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের প্রয়াত সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। সামিরা তানজিনা চৌধুরী উচ্চশিক্ষিত এবং দলের প্রতি তার পরিবারের আত্মত্যাগ সর্বজনবিদিত। একইভাবে আদিবা হোসেনও তার এলাকায় পিতার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক ঐতিহ্যের সাথে যদি ব্যক্তিগত মেধা ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটে, তবে তারা সংসদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর সদস্য হিসেবে প্রমাণিত হবেন।

ঢাকার বাইরের রাজনীতিতে যারা সক্রিয়, তাদের মধ্য থেকে সংরক্ষিত আসনে জায়গা করে নিতে পারেন বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, নিপুণ রায় চৌধুরী, হেলেন জেরিন খান এবং নাজমুন নাহার বেবী। নিপুণ রায় চৌধুরী ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন। বিলকিস জাহান শিরিন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তৃণমূলের নারীদের সংগঠিত করেছেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম এবং ফরিদা ইয়াসমিন। পাশাপাশি ফাতেমা বাদশা, মনোয়ারা বেগম মনি এবং জেলী চৌধুরীর নামও আলোচনায় আছে।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্টারি বোর্ড এখন চূড়ান্ত তালিকা তৈরির শেষ পর্যায়ে। ১৪ মার্চের সংসদ অধিবেশনের আগেই এই নামগুলো গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মনোনয়ন হবে বিএনপির ‘ভবিষ্যৎ রাজনীতি’র প্রতিফলন।

রাজপথের ত্যাগী নেত্রীদের দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি এবং আধুনিক শিক্ষিত তরুণীদের সৃজনশীলতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে বিএনপি এমন একটি সংসদীয় দল গঠন করতে চায়, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। ৩৫টি আসনের বিপরীতে কয়েকশ যোগ্য প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত যারা মনোনীত হবেন, তাদের কাঁধেই থাকবে আগামীর বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মর্যাদা রক্ষার গুরুদায়িত্ব। এখন সবার নজর নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে, যখন চূড়ান্ত হবে ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী প্রতিনিধিদের নাম।

Read more