ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে কেউ রক্ষা পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Share

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে কেউই রক্ষা পাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের দিন যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে, তবে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এমনকি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে এবং কেউ রেহাই পাবে না।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পর্যায়ে উত্তাপ বাড়তে থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করে সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কাউকে আলাদা করে তোষামোদ বা তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং দেশ ও জনগণের স্বার্থে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই হবে প্রধান কাজ। এবারের নির্বাচন বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর হবে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি শেরপুরে নির্বাচনী সংঘাতের জেরে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগলেও কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে যারা সরাসরি জড়িত তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। ভাইয়ে ভাইয়ে বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন মারামারিতে রূপ নেয়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তা থামানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে নির্বাচনের দিন যেন এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে এবার তৃণমূল পর্যায়ে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, এটি কোনো শঙ্কার কারণ নয় বরং সেবা নিশ্চিত করার অংশ। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটাররা যখন কেন্দ্রে আসবেন, তখন তাদের শারীরিক অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে এই ব্যবস্থাগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

Read more