যশোর অফিস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন যশোরের বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ। তারা স্পষ্টভাবে বলেন, একাত্তরের রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর উত্তরসূরিদের ছড়ি ঘোরানোর বাংলাদেশ তারা দেখতে চান না।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর ইউনিটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা এসব কথা বলেন। সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,“আমি আপনাদের সন্তান। আমার কোনো কর্মকাণ্ডে আপনাদের মাথা হেঁট হবে না। যশোরের মুক্তিযোদ্ধাদের ইজ্জত ও সম্মান রক্ষায় আমি সবসময় সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দেবো।”
তিনি আরও বলেন,তার পরিবারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গভীরভাবে গ্রথিত। তার পিতা-মাতা ছাত্রজীবন থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং স্বৈরাচার আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করেছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,“একমাত্র বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক হিসেবে রণাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীন ভূখণ্ড ও লাল-সবুজের পতাকা এনে দিয়েছেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন এবং প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা চালু করেন।
তিনি আরও বলেন,“চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু রাজনৈতিক দল সংস্কারের নামে অতিবিপ্লবী বক্তব্য দিলেও বিএনপিই একমাত্র দল হিসেবে একাত্তরকে অস্বীকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি স্পষ্টভাবে বলেছে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।”
আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি সাম্য, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,“আপনারা আমার অভিভাবক। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই আমি যশোরকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। এই যশোর হবে পরমতসহিষ্ণু, সহাবস্থান,ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্প্রীতির যশোর। আমার নেতৃত্বে ভিন্নমত বা ভিন্নপথের কেউ অসম্মানিত হবে না এই শিক্ষাই আমি পরিবার থেকে পেয়েছি।”
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ। সভা পরিচালনা করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আবদুল মালেক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ এইচ এম মুযহারুল ইসলাম মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ্দৌলা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।