যশোরে পাটের ন্যায্য দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা, লোকসানের শঙ্কা

Share

শহিদ জয়, যশোর 
যশোরে চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও তাপদাহে পাটের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে অভিযোগ তাদের। এর সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এখন জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে পাট ঘরে তোলার এই সময়েও তাদের মুখে হাসি নেই। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চৌগাছার মাশিয়ালি গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, সার, বীজ, জমি প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ফলন কমেছে, আবার সার ও কীটনাশকের দামও বেড়েছে। ফলে পাট বিক্রি করে খরচের টাকা ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিজলি গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে পাট ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারেনি। শেষ দিকে বৃষ্টির পর পাটের আগা শুকিয়ে যাওয়ায় মানও ভালো হয়নি। বর্তমানে প্রতি মণ তিন হাজার টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি দামে পাট বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া গ্রামের কৃষক প্রসেনজিৎ দাশ বলেন, দুই বিঘা জমিতে পাট আবাদে সার-কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। পাট কেটে জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়াতেও বাড়তি শ্রমিক খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ কারণে আগামীতে পাট চাষ না করার কথাও ভাবছেন তিনি।
তবে কৃষি বিভাগের দাবি, চলতি বছর যশোরে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, মাঠ পর্যায়ে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পাটের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। কৃষকরা প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করছেন। সরকারি পাট ক্রয়কেন্দ্রগুলো আরও কার্যকর করা গেলে এবং পাটকলের মাধ্যমে সরাসরি পাট কেনা হলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পেতেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর জেলায় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় সাড়ে ৩ টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হলে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Read more