যশোরে পৃথক অভিযানে কোটি টাকার স্বর্ণ ও চোরাই গহনা উদ্ধার, বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুই মামলা

Share

যশোর প্রতিনিধি:যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা বাজার এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, চোরাই স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও পুলিশ। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে The Special Powers Act, 1974-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে নজরদারি জোরদার করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, বেনাপোল শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নূর ই. এম. আব্দুল্লাহ-এর নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সন্দেহজনক আচরণের কারণে পাসপোর্টযাত্রী মো. মোবারক হোসেন (৪৫)-কে আটক করা হয়। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চর সন্তোষপুর গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে। তার ব্যবহৃত পাসপোর্ট নম্বর A09326789।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন বক্তব্য দেওয়ায় তার দেহ তল্লাশি করা হলে প্যান্টের পকেটে কালো টেপে মোড়ানো দুটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১০০ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি OPPO A5 মোবাইল ফোন, ব্যবহৃত সিমকার্ড, পাসপোর্টসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে কাস্টমসের ধারণা, স্বর্ণগুলো অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল। এ ঘটনায় The Special Powers Act, 1974-এর 25B(1)(a) ধারায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে আটক মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়।

অন্যদিকে একই দিনে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় খাজুরা পুলিশ ক্যাম্প। এসআই (নিঃ) মো. ফিরোজ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থেকে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে চোরাই স্বর্ণালংকার নিয়ে খাজুরা বাজারে আসছে। পরে খাজুরা বাজারের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে একটি কালো রঙের বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি সুনীল কুমার বিশ্বাস (৩৭), পিতা- মৃত সমরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, মাতা- মৃত কবিতা রানী বিশ্বাস, গ্রাম- শিবনগর, থানা- কালীগঞ্জ, জেলা- ঝিনাইদহ।

তার সঙ্গে থাকা কালো ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ১৯ ক্যারেট স্বর্ণের আংটি, ৪ জোড়া ২০ ক্যারেট কানের দুল, ২টি ১৯ ক্যারেট স্বর্ণের লকেট, ২৬৩টি ১৪ ক্যারেট স্বর্ণের নাকফুল, ২০টি ১৬ ক্যারেট স্বর্ণের মাকড়ি, ৮৮টি রুপার গলার চেইন, ৪৮ জোড়া রুপার নূপুর, ৯ জোড়া রুপার এস-মুথ, ২টি রুপার লকেট, ৪৫টি রুপার ব্রেসলেট, ২৭টি রুপার বেবি বালা, ৫৩টি রুপার আংটি, নগদ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা, একটি ওপ্পো ৫জি প্রো মোবাইল ফোন, একটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে গহনার ওজন ও বিশুদ্ধতা যাচাই করে পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও রুপার গহনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৬ লাখ টাকারও বেশি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুনীল কুমার বিশ্বাস স্বীকার করেন, তিনি চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় তৈরি স্বর্ণ ও রুপার গহনা বাংলাদেশে এনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে The Special Powers Act, 1974-এর 25B(1)(b) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাতেই জব্দকৃত আলামত আইনগত প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালান ও আন্তঃজেলা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Read more