যশোরে পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার ৩ মাদক কারবারি আটক ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট তৈরির অভিযোগে ল্যাব টেকনোলজিস্ট গ্রেপ্তার

Share

যশোর অফিস 
 যশোরে পৃথক অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই দিনে ভুয়া মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে যশোর পুলিশ হাসপাতালের এক ল্যাব টেকনোলজিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড কবরস্থানপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভাড়াটিয়া মো. স্বাধীন হোসেনের (২৩)শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তার পরিহিত ট্রাউজারের পকেট থেকে ২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে,কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে শহরের মুড়লী মোড় এলাকায় ১২ পিস ইয়াবাসহ মোছেব আলী (২৮) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে শাহী জামে মসজিদ সংলগ্ন ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই (নি.) তামিম রহমানের নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা।এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই রাতে সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবির হোসেন (২০) নামে এক যুবককে আটক করেন। তার দেহ তল্লাশি করে ১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, বিক্রির উদ্দেশ্যে যশোর শহরের বাদিয়াটোলা এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। এ ঘটনায় এসআই (নি.) মো. আব্দুর রউফ বাদী হয়ে একই আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে ভুয়া মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগে যশোর পুলিশ হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট মো. রাকিবুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলে কর্মরত এক পুলিশ সদস্য তার স্ত্রীর পরীক্ষার জন্য রাকিবুল ইসলামের কাছে রক্তের নমুনা ও ৫০০ টাকা দেন। পরে তিনি কুইন্স হাসপাতালের নামে একটি রিপোর্ট সরবরাহ করেন। সন্দেহ হলে ওই রিপোর্ট নিয়ে কুইন্স হাসপাতালে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, সেটি ভুয়া এবং হাসপাতালের সার্ভারে এর কোনো তথ্য নেই। এছাড়া রিপোর্টে ব্যবহৃত প্যাড ও চিকিৎসকের স্বাক্ষরও জাল বলে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবুল ইসলাম বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের নামে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি ও সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কুইন্স হাসপাতালের দুটি খালি প্যাড এবং অন্য একটি হাসপাতালের প্যাডে প্রস্তুত তিনটি রিপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাসপাতালের নামে জাল রিপোর্ট তৈরি করে প্রতারণা করে ।

Read more