নীলফামারী প্রতিনিধি :
নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ দোনদরী ধরেরপাড় গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দখল, হুমকি, অশ্লীল আচরণ ও নারীদের হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে। সর্বশেষ প্রতিবেশীর গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, দক্ষিণ দোনদরী ধরেরপাড় গ্রামের জফুর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে তিনি প্রায়ই জমির আইল সরিয়ে অন্যের জমি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি প্রতিবেশীর মালিকানাধীন দু’টি বটগাছ কেটে ফেলেন শফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই মনিরুজ্জামান। এ বিষয়ে এক প্রতিবেশী নারী প্রতিবাদ জানিয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখান এবং হত্যার হুমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তিনি নিজের পরনের কাপড় খুলে অশ্লীল আচরণ করেন। এ সময় তার ছোট ভাই মনিরুজ্জামানও ঘটনাস্থলে এসে একই ধরনের আচরণে অংশ নেন। দুই ভাই মিলে ওই নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী ঘটনার পর নীলফামারী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, শফিকুল ইসলামের আচরণে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। বিশেষ করে নারীরা তার চলাফেরা ও অশ্লীল আচরণের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই সামাজিক সম্মান ও প্রতিশোধের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।