ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশাল বিজয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্যদিকে ৭৭টি সাধারণ আসন পেয়ে বিরোধী দলে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য।
সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হবে। নিয়ম অনুসারে প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়। এ হিসাবে ৭৭টি আসনের বিপরীতে ১১ দলীয় জোট পাবে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন, ফলে তারা পাবে ১১টি সংরক্ষিত নারী আসন।
জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে কারা সংরক্ষিত নারী আসন পাবে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও বিভিন্ন দলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায় এসেছে।
এনসিপি
সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে পাঠাতে পারবে এনসিপি। দলটির মিডিয়া সমন্বয়ক মাহবুব আলম জানিয়েছেন, এই পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু)।
এলডিপি
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবারের নির্বাচনে সাতটি আসনে অংশ নিলেও কোনো আসনে জয় পায়নি। দলটির একাংশ মনে করে, জোটে ভূমিকা বিবেচনায় তাদের একটি সংরক্ষিত নারী আসন দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন গণতান্ত্রিক মহিলা দলের সভাপতি অধ্যাপিকা মোছাম্মৎ কারিমা খাতুন, যিনি জয়পুরহাট-২ আসনে পরাজিত হন। এছাড়া গণতান্ত্রিক মহিলা দলের সম্পাদক অধ্যাপিকা তপতী রানী করের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে, তিনি গোপালগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
তবে দলটির শীর্ষ নেতা অধ্যাপক ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার বা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো দাবি তোলা হয়নি।
জাগপা
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। তবে জোটের পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছেন দলের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। দলটির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সভাপতি ব্যারিস্টার তাসনিয়া প্রধানের নাম আলোচনায় রয়েছে। রাশেদ প্রধান জানিয়েছেন, জোটে আলোচনা হলে তারা সভাপতির নাম প্রস্তাব করবেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টি
বাংলাদেশ লেবার পার্টি নির্বাচনের আগমুহূর্তে জোটে যুক্ত হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পার হয়ে যাওয়ায় দলটি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে জোটের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার দাবি করে দলটি সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রতিনিধিত্ব চায়। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রস্তাবিত নাম অ্যাডভোকেট জহুরা খাতুন জুঁই।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি সাধারণ আসনে জয় পেয়েছে। তবে সংরক্ষিত নারী আসন বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক দাবি তোলা হয়নি। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে জোটে এখনও আলোচনা হয়নি। অন্যান্য শরিক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি সাধারণ আসনে জয় পেয়েছে। তবে সংরক্ষিত নারী আসন বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক দাবি তোলা হয়নি। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে জোটে এখনও আলোচনা হয়নি।
অন্যান্য শরিক
জোটের বাইরে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আটটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসন পায়নি। দলটির আমিরে শরিয়ত মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী জানিয়েছেন, তারা কোনো সংরক্ষিত নারী আসন প্রত্যাশা করেন না।
জোটের একটি সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। তবে জোটের ঐক্য অটুট রাখতে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে সমঝোতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জোটের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।