যশোরে ছেলের হাতে মা খু,ন, ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ছেলে গ্রে,প্তা,র করেছে পিবিআই

Share

যশোর প্রতিনিধি
যশোরে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মো. মামুনুর রশিদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), যশোর। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৭ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মামুনুর রশিদ যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি লাউজানি এন.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহত আনোয়ারা খাতুন (৬৫) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেনের স্ত্রী।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মামুনুর রশিদ তার মায়ের বাড়িতে যান। এ সময় মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ রান্নাঘরে থাকা ধারালো তরকারি কাটার বটি দিয়ে আনোয়ারা খাতুনের পিঠে আঘাত করেন। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে মাথা, মুখমণ্ডল, পিঠ ও বাম হাতে একাধিক কোপ দেন। একপর্যায়ে বটি দিয়ে জবাই করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মঞ্জুর হাসান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পিবিআই যশোরের ওপর ন্যস্ত হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানাধীন ৮ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকা থেকে মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুর রশিদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
পিবিআই যশোরের জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার দিনই প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। হত্যাকাণ্ডের ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Read more