যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পুলিশের দাবি, গত ৩১ জুলাই রাজারহাট এলাকায় মশাল মিছিলের প্রস্তুতি ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের আদালতে দাখিল করা নথি সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালী থানার এফআইআর নং-৯, তারিখ ২ আগস্ট ২০২৬, জিআর নং-৬৬০ মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬/৮/৯/১০/১১/১২/১৩ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও আদালতে প্রেরণ করা আসামিরা হলেন কোতোয়ালী থানা এলাকার উপশহর (সি-ব্লক) মুনজুর আলমের ছেলে সৈয়দ মুনসুর আলম (৫০),শালিয়াঘাট
মোঃ ছমির মোল্যার ছেলে মোঃ মাসুম বিল্লাহ (৩৮), ১ নং সেক্টর, উপশহর মৃত একমত মিয়ার ছেলে মোঃ রানা হামিদ (৫৭),নতুন উপশহর (এ-ব্লক) মোঃ আব্দুল মোতালেবের ছেলে মোঃ লুৎফর রহমান ওরফে বিপু (৪৫),রেলগেট ষষ্ঠীতলার মোঃ আবুল জলিলের ছেলে মোঃ আল-মামুন (২৩) মোড়াপাড়া মোঃ মাহফুজুর রহমানের ছেলে মোঃ বরকত উল্লাহ (৩৪)।
পুলিশের মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজারহাট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, রাজারহাট-রামনগর পিকনিক কর্নারের পাশে একটি গরুর খামারের সামনে পাকা সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ওই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের নথিতে সৈয়দ মুনসুর আলমকে উপশহর (সি-ব্লক) এলাকার বাসিন্দা, মোঃ মাসুম বিল্লাহকে শালিয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা, মোঃ রানা হামিদকে উপশহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এবং মোঃ লুৎফর রহমান ওরফে বিপুকে যুবলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিচয় পুলিশের মামলার নথিতে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সৈয়দ মুনসুর আলমকে ১০ আগস্ট রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে নিউমার্কেট এলাকা থেকে, মোঃ মাসুম বিল্লাহকে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে শালিয়াঘাট (ঘোপ নওয়াপাড়া) এলাকা থেকে, মোঃ রানা হামিদ ও মোঃ লুৎফর রহমান ওরফে বিপুকে রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নিউমার্কেট এলাকা থেকে এবং মোঃ আল-মামুনকে রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রেলগেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পৃথক আদালত চালান অনুযায়ী মোঃ বরকত উল্লাহকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে আত্মগোপন বা পলাতক হওয়ার আশঙ্কা থাকায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চালানসহ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত, কোতোয়ালী, যশোর-এর আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে চলবে।