বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ ক্লিনশিট রাখার পর অবশেষে প্রথমবারের মতো গোল হজম করল আর্জেন্টিনা। তবে জর্ডানের বিপক্ষে লিওনেল মেসিবিহীন দলটি এখনো এগিয়ে রয়েছে ২-১ ব্যবধানে।
বিরতির পর বদলি নেমে মুসা আল তামারির গোলে ব্যবধান কমিয়েছে জর্ডান, যদিও এর আগে জিওভানি লো সেলসো ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে দুই গোলের লিড গড়ে নিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-তে জর্ডানের বিপক্ষে লিওনেল মেসিকে বিশ্রামে রেখেই মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ১৮তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে জর্ডানের জালে বল পাঠান জিওভানি লো সেলসো। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
এরপর ২৭তম মিনিটে কর্নার থেকে লাউতারো মার্তিনেজের কাছ থেকে আসা শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের আক্রমণেই ডি-বক্সে মার্কোস সেনেসিকে ফাউল করলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৩০তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে নিচের বাঁ কোণে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষে অতিরিক্ত ৫ মিনিট যোগ করা হয়। তবে ইনজুরি টাইমেও আর কোনো গোল হয়নি।
বিরতির পর দুই পরিবর্তন এনে মাঠে নামে জর্ডান। আলি আজাইজেহ ও ওদেহ ফাখৌরির জায়গায় নামেন মুসা আল তামারি ও মাহমুদ আল মারদি। বদলির প্রভাবও দ্রুত দেখা যায়।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে (৫৪:১৩) এহসান হাদ্দাদের ক্রস থেকে বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শটে জালের ওপরের বাঁ কোণে বল পাঠান মুসা আল তামারি। তার এই গোলে ২-১ ব্যবধানে ব্যবধান কমায় জর্ডান। এর মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে চলতি আসরে নিজেদের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব ধরে রাখে জর্ডান।
এর আগে ৫৩তম মিনিটে লো সেলসোর পাস থেকে দূরপাল্লার শটে আবারও ক্রসবারে আঘাত করেন লাউতারো মার্তিনেজ। অন্যদিকে ৫১তম মিনিটে মুসা আল তামারির একটি দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ম্যাচের এই পর্যায়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও জর্ডানের আক্রমণে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নিজেদের রক্ষণভাগ ভাঙতে দেখল আর্জেন্টিনা।