অভিষেক বিশ্বকাপেই নতুন এক রূপকথার জন্ম দিল কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম অংশগ্রহণেই গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি।
শুক্রবার রাতে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ‘ব্লু শার্কস’ খ্যাত দলটি শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে।
মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বে পা রাখা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ এখন তারাই। অভিষেক বিশ্বকাপেই তাদের এমন অবিশ্বাস্য কীর্তি ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে পরাশক্তিদের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে কেপ ভার্দে। প্রথম ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে আটকে দিয়ে ০-০ গোলে ড্র করে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে লড়াকু ফুটবল খেলে দুইবার পিছিয়ে পড়েও উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে সমতা আনে। আর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। এই গ্রুপ থেকে শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডে গেছে স্পেন।
ম্যাচের আগের দিন কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বলেছিলেন, ‘স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার আছে, আর অসম্ভব বলে কিছু নেই।’ মাঠে সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে তার দল।
এই ম্যাচে কেপ ভার্দের নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মোহাম্মদ কানোর হেড দারুণভাবে রুখে দেন তিনি। ৬৬তম মিনিটে মোহাম্মদ আবু আল-শামাতের শক্তিশালী শট এবং ৯২তম মিনিটে আবদুল্লাহ আল-হামদানের প্রচেষ্টাও অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন অভিজ্ঞ এই গোলকিপার।
অন্যদিকে, কেপ ভার্দেও একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল। ৫০তম মিনিটে কেভিন পিনার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৭৪তম মিনিটে লারোস দৌরতে শট রুখে দেন সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে নুনো ডা কস্তা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মিনিট পরই আসে সবচেয়ে বড় সুখবর। স্পেন উরুগুয়েকে হারিয়ে দেওয়ায় গ্রুপ ‘এইচ’-এ দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত হয় কেপ ভার্দের। খবরটি নিশ্চিত হতেই খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। অনেকেই আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন, কারণ বিশ্বকাপের অভিষেকেই তারা লিখে ফেলেছেন এক অনন্য ইতিহাস।
অভিষেকেই বিশ্বকে চমকে দেওয়া কেপ ভার্দের সামনে এবার আরও বড় পরীক্ষা। নকআউট পর্বে তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। আগামী ৩ জুলাই মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য সেই মহারণকে সামনে রেখে আরেকটি ‘মহাবিস্ময়’ উপহার দেওয়ার স্বপ্ন বুনছে ব্লু শার্কসরা।