যশোর অফিস
নতুন ও ব্র্যান্ড নিউ টেলিভিশনের নামে পুরাতন এবং ত্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রির অভিযোগে যশোরে র্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের এক শোরুম ইনচার্জের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে বুধবার মামলাটি করেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী ফরিদুল ইসলাম।
মামলায় যশোর শহরের রেলরোড এলাকার র্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের শোরুম ইনচার্জ রবিউল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর কাজী ফরিদুল ইসলাম র্যাংগসের যশোর শোরুম থেকে এক লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় একটি ৬৫ ইঞ্চি সনি ব্রাভিয়া টেলিভিশন ক্রয় করেন। শোরুম কর্তৃপক্ষ সেটিকে সম্পূর্ণ নতুন পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে এবং পরে তাদের কর্মীরা বাদীর বাসায় গিয়ে টেলিভিশনটি স্থাপন করে দেন।
তবে ব্যবহার শুরু করার পর থেকেই টেলিভিশনটিতে বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। বাদীর দাবি, টিভির বর্ডারে ধুলাবালি জমে থাকা, ছবি ও শব্দে অস্বাভাবিক সমস্যা এবং চ্যানেল পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়াসহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখে তার সন্দেহ হয় যে, এটি নতুন নয়; বরং পূর্বে ব্যবহৃত একটি ত্রুটিযুক্ত টেলিভিশন।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, টেলিভিশনটি পরিবর্তন কিংবা মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওয়ারেন্টি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও শোরুম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে।
গত ৩১ মার্চ শোরুমের একজন কর্মচারী বাদীর বাসায় গিয়ে টেলিভিশনের ত্রুটিগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু সমস্যা স্বীকার করার পরও টিভিটি ফেরত নেওয়া বা পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে প্রতিকার না পেয়ে গত ২৬ এপ্রিল শোরুম ইনচার্জের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান কাজী ফরিদুল ইসলাম। তবে ওই নোটিশেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ চলতি মাসের ৬ জুন টেলিভিশনটি পরিবর্তন করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ সাত মাস ধরে ভোগান্তির শিকার হওয়ার পর প্রতারণা ও আর্থিক ক্ষতির বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন এই আইনজীবী। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।