‘শিশুদের ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক অপরাধের সিভিয়ার পানিশমেন্ট দিতে হবে’

Share

ভবিষ্যতে কোনো শিশুর ওপর যদি এই ধরনের ন্যাক্কারজনক অপরাধ সংঘটিত হয় তার ক্ষেত্রে (অপরাধীর প্রতি) কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য না দেখিয়ে সিভিয়ার পানিশমেন্ট (কঠিন সাজা) দিতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়টি ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের কাছে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণের কথা জানান।

আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত তার ফাইন্ডিংয়ে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, চিকিৎসক যে রিপোর্ট দিয়েছেন সেখানে রামিসা আক্তারের দেহে ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। যার কারণে তিনি সব সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে রায় দিয়েছেন।

‘আমরা প্রসিকিউশন পক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট এবং এই রায়ের ক্ষেত্রে সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা যেভাবে এই মামলায় দ্রুত বিচারের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। এজন্য আমরা রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছি।

ট্রাইব্যুনাল তা রেকর্ড করে অতি দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণা করেছেন। এই রায়ে আবারও আমরা বলি আমরা প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তুষ্ট।’
বর্বরোচিত এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল কোনো পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল শুরুতেই বলেছেন যে শিশুদের অধিকার বা শিশুদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। আমাদেরও রাষ্ট্রের মৌলিক উদ্দেশ্যগুলোর একটি হলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুদের রক্ষা করা। সেই শিশুদের, কোনো শিশুর ওপর যদি এই ধরনের ন্যক্কারজনক অপরাধ সংঘটিত হয় তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য না দেখিয়ে সিভিয়ার পানিশমেন্ট দিতে হবে। তারই নিমিত্তে ট্রাইব্যুনাল তার স্বীয় বিবেচনায় এবং নিজস্ব জুরিকডিকশনে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন দুই আসামিকে।

এই আইনজীবী বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক কাজের একটি হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অর্থাৎ শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস তৈরি করা বা রক্ষা করা। কোনো শিশুর ওপর যখন এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে রাষ্ট্র কিন্তু অতিদ্রুতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়ে বিচার কাজ করতে সহায়তা করেছেন, সেই বিচারে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন সেটা অবশ্যই একটা মাইলফলক হিসেবে থাকবে।

উচ্চ আদালতে এই মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধানে ১৮টি মৌলিক অধিকার উল্লেখ আছে। এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে এবং আপিল বিভাগে যাবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে কিনা, আমরা এই প্রসেস বাইপাস করতে পারবো না। সুতরাং ভবিষ্যতে সরকার এবং বিচার বিভাগের অভিভাবক প্রধান বিচারপতি কীভাবে দ্রুততার সাথে করবেন সেটা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব বিবেচনায় সেটা করবেন। এ ব্যাপারে আমাদের মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার নেই।

তিনি বলেন, এই মামলার রায় মূলত চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছে। এই চার কার্যদিবসকে অনেকে বলতে পারেন পাঁচ কার্যদিবস। কিন্তু আইন অনুযায়ী, চার কার্যদিবসে হয়েছে অথবা সাধারণভাবে পাঁচ কার্যদিবস বললেও ভুল হবে না। সেই নিরিখে এটা মাইলফলক হয়ে থাকবে, এই ধরনের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে।

Read more