যশোর প্রতিনিধি: বিয়ের ১০ পর সালমা খাতুন নামে এক নারী
একসঙ্গে ৭ সন্তান প্রসব করেছে। এর মধ্যে ৪ ছেলে ৩ টি মেয়ে সন্তান। তবে, জন্মের পর সকলের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। প্রসূতি সালমা নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের মহসিন মোল্যার স্ত্রী। তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সালমার শাশুড়ি মঞ্জুরা খাতুন জানান, গত সোমবার রাতে তার ছেলের বউয়ের প্রসব বেদনা উঠলে বাড়ি থেকে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর সন্তানগুলোর জন্ম হয়।
দাদা আব্দুল লতিফ মোল্যা বলেন, আমার ছেলে সৌদিআরবে থাকত। তিন বছর আগে দেশে এসে ইজিবাইক চালায়। তাদের বিয়ের ১০ বছর পর এবার সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুণছিলাম সবাই। কিন্তু, সাতটি সন্তানের জন্ম হলেও তাদের বাঁচানো গেলো না। এ কষ্ট রাখব কোথায় ?
স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সেলিম জানান, কালুখালী গ্রামের মহসিন মোল্যার সাতটি সন্তান হবে, এমন খবর জানতে পেরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সবার মধ্যে সাতটি সন্তান দেখার কৌতুহল ছিল। কিন্তু, সন্তানগুলো মারা যাওয়ায় সবাই ব্যতীত হয়েছেন। আমরা মহসিনের অসুস্থ স্ত্রীর সুস্থতা কামনা করছি।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার সন্তানগুলো অপরিপক্ক অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। পাঁচ মাসে ২০০ গ্রাম করে ওজন হয়েছে। হার্টবিট থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাউকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।