নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের খামারিরা কোরবানির পশু প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার বিভিন্ন খামারে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার বেশি।
খামারিদের দাবি, পশুখাদ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তাই কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলার বিভিন্ন খামারে দেশি গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, সিন্ধি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুও প্রস্তুত করা হয়েছে। খামারিরা বলছেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
খামারি মিলন হোসেন জানান, তার খামারে ১২৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫টি গরু এবার কোরবানির বাজারে তোলা হবে। গরুগুলোর ওজন ৭ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত। তিনি বলেন, “খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু পালন করছি। ভালো দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।”
আরেক খামারি হাসানুজ্জামান বলেন, “আমরা গরুকে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়াই। কোনো ইনজেকশন বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করি না। মানুষের নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ।”
খামারি সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভুসি, খৈলসহ সব ধরনের খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম না পেলে বিপাকে পড়তে হবে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, জেলার খামারিদের সহযোগিতায় এ বছর ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬ হাজার ২৫৯টি গরু, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল এবং ৪৪২টি ভেড়া। তিনি বলেন, “জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”