স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

Share

তিন মাসে একবার পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সংবাদ মাধ্যমের আর্থিক সংকটের সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন এবং গণমাধ্যমের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।

এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় নোয়াব নেতাদের।

বৈঠকে নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ছাড়াও প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকালের প্রকাশক একে আজাদ, দৈনিক বণিক বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফসহ অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র শিল্প নিয়ে কথা হয়েছে। আপনারা জানেন সংবাদপত্র শিল্প এখন নানা চাপের মধ্যে আছে। অর্থনৈতিক চাপ সবচেয়ে বেশি। সংবাদপত্র শিল্প টিকে থাকবে কি, থাকবে না- এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

মতিউর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি শুনেছেন। আমরা এটাও বলেছি যে, আপনি তো এই শিল্পেরই একজন মানুষ। উনি (প্রধানমন্ত্রী) একটা পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং তিনি এটার সুখ-দুঃখ সম্পর্কে জানেন। তিনি শুনেছেন। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের যেসব দাবি-দাওয়া, সব ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সময়ের ব্যাপার, এটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হয়ত কিছুটা সময় লাগতে পারে। সেটা বলেছেন।

নোয়াব সভাপতি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি আপনি উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। এই উদার গণতন্ত্রের পথে যদি হাঁটেন গণমাধ্যম হিসেবে আমরা সমর্থন দেব। প্রেস ফ্রিডমের (স্বাধীন সাংবাদিকতা) বিষয়ে কথা আমরা বলেছি। তিনি বলেছেন, আমি কাউকে হোস্টাইল করতে চাই না। এটা খুবই ভালো কথা। কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এটা বলেননি।

নোয়াব সভাপতি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, আগের সরকারগুলো কী করেছে, তিনি সবই জানেন। তিনি বলেছেন- আমরা সে পথে যাব না, এটা আমাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। মিটিং খুবই ইউজফুল ও কার্যকরী হয়েছে।

উল্লে­খযোগ্য দাবি প্রসঙ্গে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানি যেটা, গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক যারা, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- এই বিষয়টা আমরা আলোচনা করব। আমরা দেখব যে, আসলে তারা বিনা কারণে জেলে আছেন কিনা- তাদের জামিন দেওয়া যায় কিনা- এই বিষয়টা তিনি ভালোভাবে দেখবেন বলেছেন। সরকারের কাছে বকেয়া বিল আছে, সেটা নিয়েও কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন। কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ওয়েজবোর্ডের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের যা বক্তব্য সেটা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে- শেখ হাসিনার সময় ১৬-১৭ বছরে একবার তিনি সম্পাদক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস তার সময়ে ১৮ মাসে বসেছিলেন একবার। আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা তিন মাসে একবার বসবো। আমি মনে করি, এটাই আজকের মিটিংয়ের উল্লে­খযোগ্য ঘটনা। তাহলে দূরত্ব যেটা আছে, সেটা কমে যাবে।

Read more