সাতসকালে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

Share

ভারতের মণিপুরে সংঘটিত ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোর ৬টা ৩১ মিনিটে দেশে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানতে চেয়েছেন আসলেই কি ভূমিকম্প হয়েছে কিনা। মিরপুরের নাহিদ রানা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কেউ কি এই মুহূর্তে ভূমিকম্প টের পাইছেন না আমার ভুল ধারণা?’

সিলেটের নাইমুর রশিদ রাহুল লিখেছেন, ‘ভূমিকম্প সিলেটে’।

এদিকে, ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) অনুসারে, মঙ্গলবার ভোররাতে মণিপুরে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২১ এপ্রিল ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে এই কম্পনটি অনুভূত হয় এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কামজং-এ। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৬২ কিলোমিটার গভীরে, যা একটি মাঝারি গভীরতার ভূকম্পন নির্দেশ করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০০.৬ কিলোমিটার।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ সরাসরি বড় কোনো চ্যুতিরেখার ওপর না থাকলেও পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের কারণে এ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। তাই প্রতিবেশী অঞ্চলে মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে একাধিক মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ায় ভূ-প্রাকৃতিক সক্রিয়তা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব ঘটনা সরাসরি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়। তারপরও তারা ভূমিকম্প-প্রস্তুতি জোরদার করা এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হয়।

 

Read more