ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন জাতীয় সংসদের টানা চারবারের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত শেষ রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে থাকা সাবেক এই স্পিকারকে সেই বাসা থেকেই হেফাজতে নেয় ডিবি। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট মামলার নাম প্রকাশ করেননি।
জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় ড. শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে, উল্লেখযোগ্য হলো রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা। গত বছরের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার মামলাটি করেন। এই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে টিপু মুনশি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর টানা চারবার তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মূলত আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রংপুর-৬ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নিলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসম্মুখে আসছিলেন না। তার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল ছিল। আজকের এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটল। ডিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা ও সুনির্দিষ্ট মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।