মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে।
ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি উন্মুক্ত না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনা তুঙ্গে।
ট্রাম্পের এই হুমকির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। মঙ্গলবার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচার ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৩.৩১ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক এই উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে। লেনদেনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের পতন শুরু হয়। জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ শুরুর দিকের মুনাফা হারিয়ে ০.২ শতাংশ পতনের মুখে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার পরিস্থিতিও একই রকম। মঙ্গলবার জিএমটি ০২:২০ সময় অনুযায়ী, দেশটির কোসডাক সূচক ০.৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস ইনডেক্স ০.২২ শতাংশ কমে লেনদেন করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। মঙ্গলবারের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর হোয়াইট হাউস কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে বিশ্ববাজার।
সূত্র: আল-জাজিরা