যশোর অফিস: যশোর, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী লোন ও চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে এক নারীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। লিখিত সংবাদ সম্মেলন পাঠ করেন মোঃ আব্দুস সোবাহান।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সোবহান বলেন, যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্যাপুর গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে মাহমুদা জামান (ওরফে মাহমুদা) বর্তমানে ঢাকার লালবাগ থানার চকবাজার এলাকার দ্বিগুবাগ লেনে বসবাস করেন। তিনি নিজেকে কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা, কখনো এনজিওর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় স্বল্প সুদে ঋণ পাইয়ে দেওয়া ও চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং স্বাক্ষর করা একাধিক ব্ল্যাঙ্ক চেক গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবি,যশোরের ইন্নাতুল হাসান, শান্তনা,নুপুর, শাহিনা, ইমরান, সোবহান, আল-আমিন, দিতি, সুকুর আলী, সুখজানসহ আরও অনেকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাহমুদা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্নাতুল হাসানের কাছ থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য বড় অঙ্কের লোন ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং তিনটি স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক নেওয়া হয়।
যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাবু গাজীর স্ত্রী দীপু খাতুনের কাছ থেকে একটি এনজিওতে উচ্চ পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই দফায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সদর উপজেলার চাঁদপাড়া এলাকার শুকুর আলীর কাছ থেকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা ও তিনটি ব্ল্যাঙ্ক চেক নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাউলিয়া গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছ থেকে ঢাকার ডায়মন্ড লাইফ নামে একটি এনজিওতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মোকসেদ শেখের ছেলে সোহান হোসেনের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা ও তিনটি ব্ল্যাঙ্ক চেক, পূর্ব বারান্দী পাড়ার মৃত মুজাহিদ মুন্সীর ছেলে রমজানের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ও তিনটি ব্ল্যাঙ্ক চেক নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া হাফিজুর রহমানের ছেলে আল আমিন হোসেনের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও তিনটি ব্ল্যাঙ্ক চেক, ঝুমঝুমপুর এলাকার সাইদুর রহমান রিপনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ও তিনটি ব্ল্যাঙ্ক চেক, হামিদপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও তিনটি ব্ল্যাঙ্ক চেক নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
ভুক্তভোগীদের একজন তানজিনা রহমান অভিযোগ করেন, একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত বছরের ২৮ জুন তার কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চারটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাঙ্ক চেক গ্রহণ করেন মাহমুদা জামান।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা অধিকাংশই গরিব পরিবারের সদস্য। আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে এই টাকা দিয়েছেন। এখন প্রতারিত হয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত তাদের টাকা ও স্বাক্ষরিত চেক ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্নাতুল হাসান, তানজিনা রহমান, শান্তনা, নুপুর, শাহিনা, মিরাজ হোসেন ইমরান, সোবহান, আল-আমিন, দিতি, সুকুর আলী ও সুখজানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরা।