যশোর অফিস:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে দুই নাবালক সন্তানকে রেখে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি রাজপথে নেমে এসেছিলেন। স্বাধীনতা-উত্তর প্রজন্মের অনেকেই তার সংগ্রাম দেখে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং তার কাছ থেকেই দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে জনগণের ভোটে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা বিস্তার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি, যা আজও দেশবাসী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও সাহস বিশ্বে উদাহরণ হয়ে আছে। ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার কিংবা শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা না করে তিনি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি এই নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার সংগ্রামকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, এই লড়াই ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেত্রীর মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। তার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি দেশের মানুষের কাছে অভিভাবকের মতো ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকারসহ সকল সংসদ সদস্যকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে যশোর-৩ (সদর) আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা ভোট দিয়ে তাকে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে খুন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।