ইরান যুদ্ধে আমেরিকা নির্মমভাবে পরাজিত হবে-বেনজীন খান

Share

যশোর প্রতিনিধি 
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে যশোরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে প্রাচ্যসংঘ এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।
এতে প্রধান বক্তার বক্তৃতা করেন প্রাচ্যসংঘের প্রতিষ্ঠাতা লেখক ও গবেষক বেনজীন খান। সভাপতিত্ব করেন প্রাচ্যসংঘের আহবায়ক খবির উদ্দিন সুইট।
বেনজীন খান তার বক্তৃতায় বলেন, ইরান শহিদি জাতি, এরা শহিদ হতে জানে। তারা একটি বিপ্লবি জাতি। এই জাতির ইতিহাস পৃথিবীর সব থেকে প্রাচীন সভ্যতার একটি। যা ছয় হাজার বছরের ইতিহাস। আমেরিকা এখান থেকে নির্মমভাবে পরাজিত হয়ে বিদায় নিবে ইতিহাস তাই বলছে।
তিনি আরও বলেন, ইফতারের সময় হবে মুসলমানরা যে যেখানে আছে অন্তত বাংলাদেশে বিশাল সব খাদ্যের ভান্ডার নিয়ে বসে যাবে আল্লাহর নির্দেশ পালন করবে। কিন্তু এই মুসলমানদের খুব কম অংশই স্মরণ করে বা মনে রাখবে ইরানে, ফিলিস্তিনে, লেবাননে, সিরিয়ায়, ইরাকে, আফগানিস্তানে লিবিয়ায় মুসলমানরা অনেকেই খাবারই পাচ্ছে না। তারা এটাকে উৎসব আকারে নিতে পারছে না। এটা একটা কৃত্রিম জুলুম এই মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর নির্দেশ যেমন রোজা রাখার, ইফতারি করার, আল্লাহর এটাও নির্দেশ যেখানেই জুলুম যেখানেই জালিম তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা। তার বিরুদ্ধে লড়াই করা। মানুষের মুক্তি এবং মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের বানি পৌছে দেয়া।
২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তিরত অবস্থায় ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে আক্রমণ করেছে আমেরিকা উল্লেখ করে বেনজীন খান বলেন, ইরান মরে যাবে কিন্তু পৃথিবীর জালিমদেরকে নিয়ে মরবে। এই হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের একটি স্কুলে হামলা করে ১৬৫ জন শিশু শিক্ষার্থী হত্যা করা হয়েছে। পৃথিবীর দেশে দেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দস্যুবৃত্তির খতিয়ান পাঠ করা হলে মাস লেগে যাবে। আমেরিকা পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে সে যুদ্ধ বাধাচ্ছে না। যেখানে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করছে না। ইসরায়েল এমন কোন দিন নেই, যেদিন সে মুসলমানদের রক্ত না ঝরিয়ে সে ভাত খেয়েছে। একান্তই ব্যক্তিগত খায়েশ পূরণ করতে ও ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু মানুষ হত্যা করছে। মুসলমানদের হত্যা করছে। তিনি বলেন, আধুনিক পৃথিবীতে লড়াই হচ্ছে ইসলাম ভার্সেস আদারস।
বামপন্থী এবং নারীবাদীদের সমালোচনা করে বেনজীন খান বলেন, আধুনিকতার নামে সারা দুনিয়ার নারীদের বেশ্যা বানাচ্ছে। নারী স্বাধীনতার নাম করে কাপড় খুলতে চাও, তার শরীর দেখতে চাও আর ভোগ করতে চাও, এটাকে বলছো নারীর অধিকার বা নারী স্বাধীনতা। এহেন নারী স্বাধীনতা এবং বাম রাজনীতি এদেশের মানুষ কবর দিয়ে সেই কবরের ওপরে ইনসাফের মুক্তির পতাকা প্রতিষ্ঠিত করবে।
বিশ্বব্যাপী মানবজাতীর উম্মাহ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহবান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জাগপা নেতা নিজাম উদ্দিন অমিত, প্রাচ্যসংঘের সদস্য মোস্তফা মাহবুবুল হক বাবলু, মাস্টার মফিজুর রহমান, যুব নেতা মো: ইমদাদ হুসাইন, সৈয়দ মঈনুল ইসলাম কিচলু, সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম তারেক প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সোহানুর রহমান সোহান।

Read more