টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব ক্রিকেটে তোলপাড় চলছে।
আইসিসি এবং ব্রডকাস্টারদের সম্ভাব্য বিশাল আর্থিক লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তার মতে, আইসিসি যদি সত্যিই সমাধান চায়, তবে পিসিবিকে নয়, সরাসরি পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখা উচিত।
নিরাপত্তাহীনতার যুক্তিতে ভারতে হতে যাওয়া নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)।
কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি না হয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই সরিয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত ম্যাচ খেলবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি ম্যাচ না হলে আইসিসি, ব্রডকাস্টার ও বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোর প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার রশিদ লতিফ তার ইউটিউব চ্যানেল ‘কট বিহাইন্ড’-এ আইসিসিকে এক হাত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘যত ইচ্ছে আইসিসি চিঠি লিখুক। কিন্তু পিসিবিকে কেন লিখছ? পিসিবি তো কোনো প্রেস রিলিজ দেয়নি। এটা পুরোপুরি পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত। যেমনটা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে তাদের সরকার বাধা দেয়, আমাদেরও সরকার মানা করেছে।
সাহস থাকলে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখো।’
লতিফ মনে করেন, পাকিস্তান তখনই ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে যখন আইসিসি বাংলাদেশকে পুনরায় বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনবে এবং পাকিস্তানকে যথাযথ সম্মান দেবে। আইসিসি যদি এই বর্জনের কারণে পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটে, তবে তার জন্যও পাল্টা পরিকল্পনা বাতলে দিয়েছেন তিনি।
লতিফের হুঁশিয়ারি, ‘যদি আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়, তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মিলে আমরা আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজন করব এবং নিজেদের মধ্যে খেলব।’
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকার এই কড়া অবস্থান নেয়।
যদিও ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা দাবি করছেন যে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে, তবে রশিদ লতিফ বা পিসিবি সংশ্লিষ্টদের কথায় তেমন কোনো আভাস মিলছে না।
এখন আইসিসি ও ব্রডকাস্টারদের চাপ সামলাতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী ভূমিকা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। এরইমধ্যে আইসিসি জরুরি বৈঠকে বসেছে। সেখান থেকেই আসার কথা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আইসিসি।