সহিংসতা উসকে দেওয়ায় পাকিস্তানে সাংবাদিক-সাবেক সামরিক কর্মকর্তাসহ ৭ জনের যাবজ্জীবন

Share

পাকিস্তানে ২০২৩ সালের দাঙ্গার সময় সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দণ্ডিতদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক, দুইজন ইউটিউবার ও দুইজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।

ইসলামাবাদে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের বিচারক তাহির আব্বাস সিপরা আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। খবর এপি’র

জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তদের কেউই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ ছেড়ে বিদেশে বসবাস করছেন।

দণ্ডিতরা হলো- সাবেক সম্পাদক শাহীন সেহবাই; আরও দুই সাংবাদিক সাবির শাকির ও মঈদ পীরজাদা, ইউটিউবার ওয়াজাহাত সাঈদ খান ও হায়দার রাজা মেহদি; এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আদিল রাজা ও আকবর হুসেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২০২৩ সালের মে মাসে যে সহিংস অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে আসামিদের।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের মে মাসে দাঙ্গার সময় ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, সরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেয়, এক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার বাসভবন লুটপাট করে এবং রাষ্ট্রীয় বেতার সংস্থা রেডিও পাকিস্তান ভবনে ভাঙচুর করে।

২০২৪ সালে ইমরান খানকেও সামরিক ও সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান খানের প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে পরিচিত দণ্ডিত সাতজন ২০২৩ সালের ৯ মে দাঙ্গার সময় জনগণকে সহিংসতায় উসকে দেন। কারণ, ইমরান খান বারবার তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সাতজনেরই সাত দিনের মধ্যে আপিল করার অধিকার রয়েছে। তারা পাকিস্তানে ফিরলে পুলিশকে তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বলছেন, পাকিস্তানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। তবে দেশটির সরকার বলছে, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে, তবে ইউটিউবার ও সাংবাদিকদেরও মৌলিক নৈতিকতা ও সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলা উচিত।

Read more