শহিদ জয়, যশোর
বর্ণাঢ্য নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যশোরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এরপর দলীয় নেতাকর্মীরা শহরের কারবালা কবরস্থানে গিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকীসহ প্রয়াত নেতাদের কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, আব্দুস সালাম আজাদ, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ ইমরানসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে যশোর শহরের টাউন হল মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবিরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, “আল্লাহ যে রিজিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তা মানুষের ঘরে পৌঁছে যাবে। এজন্য অসাধু কোনো পথ অবলম্বনের প্রয়োজন নেই।”
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ এমন এক ধরনের রাজনীতির চর্চা করে গেছে, যার কারণে নতুন রাজনীতিতে আসা অনেকেই সেটিকে রাজনীতির মূল সংস্কৃতি মনে করেন। নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে পতিত ফ্যাসিস্টের ভাষায় কথা বলা, প্রতিনিয়ত অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কিংবা বড়দের অসম্মান করা কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। অন্তত এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের মাটির সংস্কৃতি নয়। বিএনপিও এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ধারণ করে না।”
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারেক রহমানকে সফল করার দায়িত্ব তাদের রয়েছে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি যেন মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি, তারা পর্দার অন্তরালে এক হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে টাউন হল মাঠ থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করেন। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জজ কোর্ট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশ ও র্যালিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাবেক নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদসহ জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে ঘোষিত পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির অন্যান্য আয়োজনও ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।