যশোর অফিস
গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে প্রাচ্যসংঘ যশোরের দুই সুহৃদ—জীবন সদস্য ফিরোজা জামান মিনি ও প্রাচ্য একাডেমির সংগীত বিভাগের শিক্ষক সাঈদ আহমেদ অ্যাপোলোকে স্মরণ করেছেন সংগঠনের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা।
শনিবার বিকেলে প্রাচ্যসংঘ যশোরের ওবায়দুল বারী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি খবির উদ্দিন সুইট।
স্মরণসভায় বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও সাংবাদিক বেনজীন খান, সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য ইকবাল আখতার টিয়া, আকসাদ আহম্মেদ সিদ্দিকী শৈবাল, কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম, মোর্তজা আহমেদ, সেলিম রেজা সেলিম, ফারহানা, মনিরুজ্জামান মনির, নিত্যানন্দ পাল, সাংবাদিক নূর ইসলাম, কবি কাজী শাহেদ নেওয়াজ, তাপস কুমার পাল, মশিয়ার রহমান, অহনা সেলিমসহ অনেকে স্মৃতিচারণ করেন।
বক্তারা বলেন, মৃত্যু জীবনের অনিবার্য সত্য। তবে কর্মময় জীবনই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। ফিরোজা জামান মিনি ও সাঈদ আহমেদ অ্যাপোলো সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থেকে নিজেদের কর্মের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ফিরোজা জামান মিনি ছিলেন একজন মানবিক, স্নেহশীল ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষকতা করতেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রাচ্যসংঘ যেমন একজন নিবেদিত কর্মীকে হারিয়েছে, তেমনি সমাজ হারিয়েছে একজন আদর্শ মানুষকে।
সাঈদ আহমেদ অ্যাপোলো সম্পর্কে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক, গুণী সংগীতজ্ঞ ও কৃষিবিদ। পারিবারিক দায়িত্ব পালনে তিনি ভালো সরকারি চাকরির সুযোগ ছেড়ে যশোরেই থেকে অসুস্থ বাবা-মায়ের সেবা করেছেন। বিনয়ী ও সাদাসিধে জীবনযাপনের কারণে তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ফিরোজা জামান মিনি এবং ২৯ জুলাই সাঈদ আহমেদ অ্যাপোলো মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রাচ্যসংঘ পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।