যশোর অফিস
সারাদেশের ন্যায় যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২৪০টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১১৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, যার মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রগুলো থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষাকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে তারা।
নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে শুরু হয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা। বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১১৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, এবার ছাত্রের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ছাত্রী বেড়েছে ১ হাজার ৫৫৯ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ হাজার ১৮৯ জন ছাত্রী এবং ৫৬ হাজার ৯৯৮ জন ছাত্র।
বিভাগওয়ারী হিসেবে বরাবরের মতোই মানবিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৮১ হাজার ৯৬০ জন। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে ২২ হাজার ৭২৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় অংশ নিচ্ছে ১২ হাজার ৪৯৪ জন পরীক্ষার্থী।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৫৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে খুলনা জেলা থেকে এবং সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৯১৫ জন মেহেরপুর জেলা থেকে। এছাড়া যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ বাকি জেলাগুলোতেও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে পাঁচ বছর পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ায় বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো ছিলো বলে ভালো পরীক্ষা দিতে পেরেছে বলে জানিয়েছে তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, এবারের সৃজনশীল বা সিকিউ (CQ) অংশের প্রশ্ন বেশ সহজ ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ ছিল বহুনির্বাচনী বা এমসিকিউ (MCQ) অংশটি।
রাকিব হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সিকিউ প্রশ্ন অনেক ভালো হয়েছে, লেখা গেছে। কিন্তু এমসিকিউ প্রশ্নটা একটু বেশি ঘুরিয়ে এসেছে, তাই উত্তর মেলাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আর আমাদের দাবি ৭টি সৃজনশীল প্রশ্নের জায়গায় যদি ৬টি লেখার নিয়ম করা হতো, তাহলে সময়ের মধ্যে সুন্দরভাবে শেষ করা যেত।
অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করায় শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফাতেমা আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থী। তিনি বলেন, এবার সব বোর্ডে অভিন্ন বা একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমি খুশি । কারণ অভিন্ন প্রশ্নপদ্ধতি বৈষম্য কমিয়ে আনবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে মেধাবীরা এগিয়ে থাকবে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মুঃ আব্দুস ছালাম পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বলেন, পরীক্ষা গ্রহণের সার্বিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বোর্ড কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ‘র্যাপিড ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার শিক্ষার্থীরা প্রথমবার অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে। কেন্দ্র পরিদর্শন করে আমি দেখলাম, অভিন্ন প্রশ্ন হলেও শিক্ষার্থীরা খুব স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিচ্ছে। অভিন্ন প্রশ্নের যে এক ধরনের মানসিক চাপ থাকে, তা আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা যায়নি। আশা করি, এবারের পরীক্ষা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হবে।