বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস গ্রামে শিশু রিফাত অপহরণ ও হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২১ জুন) বেলা ২টার দিকে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবুল কালাম আজাদ, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান, রাজু মিয়া ও মোহাম্মদ সাগর। রায় ঘোষণার সময় মামলার ১১ আসামির মধ্যে ৮ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আলী আসগর জানান, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস গ্রাম থেকে ৮ বছর বয়সী শিশু রিফাতকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর উপজেলার পোয়ালগাছা ভদ্রাবতী ব্রিজের নিচ থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধে শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার অপর এক আসামি মাসুদ রানা বিচার চলাকালে মারা যান। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সেলিম ইসলাম ও মোহাম্মদ সাগর পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার সময় শিশু থাকা অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর নিহত রিফাতের বাবা এনামুল হক আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে তার ছেলে হত্যার বিচার হয়েছে।