ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে পুঁজি দাঁড়ায় প্রায় দুইশর কাছাকাছি। বড় রানের সেই পাহাড় তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশও অবশ্য ছেড়ে কথা বলেনি। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া রান চূড়ার জবাবটা দারুণভাবেই দিচ্ছিল স্বাগতিকেরা। শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে টিকে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এই বীরোচিত লড়াইটাও জয়ের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। ম্যাচ যখন একদম হাতের নাগালের মধ্যে চলে আসে, ঠিক তখনই ছন্দ হারিয়ে হাতছাড়া হয় দুর্দান্ত এক জয়।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ৭ রানে হেরে এক ম্যাচ হাতে থাকতেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে বাংলাদেশ তীব্র লড়াই করার পরও ৬ উইকেটে ১৮৯ রানের বেশি করতে পারেনি। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত করল সফরকারীরা। এর মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজ হারের বদলা বেশ ভালোভাবেই নিলেন মিচেল মার্শ-টিম ডেভিডরা।
রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান মিলে পাওয়ার প্লেতে ঝোড়ো ব্যাটিং উপহার দেন। প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান তোলে বাংলাদেশ। তানজিদ ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হলেও সাইফ এক প্রান্ত আগলে রানের চাকা সচল রাখেন। তিনে খেলা সৌম্য সরকার ৩টি চারে আত্মবিশ্বাসী শুরু করলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
তৃতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ যেভাবে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল এই জুটিতেই বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে। দুজনে ৩৬ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। ইমন ক্রিজে গিয়েই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন। নবম ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকে পরপর দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকান। এরপর জোয়েল ডেভিসকেও একটি বিশাল ছক্কা উড়ান লং অফ দিয়ে। ছুটির দিনে হাউজফুল গ্যালারির দর্শকরাও তখন বড় কিছুর আশায় বুক বাঁধছিলেন।
ঠিক যখন খেলাটা বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় আসতে শুরু করল, তখনই বিপদ ডেকে আনেন থিতু হওয়া দুই ব্যাটার। ৪ রানের ব্যবধানে পরপর দুই ওভারে পারভেজ ও সাইফ আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। পারভেজ ২২ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৬ রান করে হার্ডির বলে আউট হন। আর সাইফ ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ বলে ৪২ রান করে ডেভিসের বলে কাভারে ক্যাচ দেন। এরপর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা করেছেন, শামীম পাটোয়ারি ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন কিছুটা অবদান রাখলেও তা যথেষ্ট ছিল না।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। প্রথম ৩ বলে বাউন্ডারি ছাড়া আসে মাত্র ৫ রান। চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তাওহীদ। শেষ ২ বলে দরকার ছিল ২টি ছক্কা। কিন্তু পঞ্চম বলে তাওহীদ বড় শট খেললেও ব্যাটের কানায় লেগে বল বাউন্ডারি পার হলে ৪ রান যোগ হয়। শেষ বলে ৮ রানের প্রয়োজনে তাওহীদের নেওয়া শটটি সীমানায় ধরা পড়লে শেষ হয় বাংলাদেশের আশা। ২২ বলে ৩৫ রান করে আউট হন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আজ মূল পার্থক্য গড়ে দেন ম্যাট রেনশ। এই বাঁহাতি ব্যাটার ৫২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ৫টি ছক্কার ৪টিই তিনি মেরেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে। এর মধ্যে ১৩তম ওভারেই রিশাদকে পরপর তিন বলে তিনটি ছক্কা হাঁকান এই হার্ডহিটার। রেনশকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন টিম ডেভিড। পাঁচে নামা ডেভিড ২৬ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৫ রান করে সাকলাইনের বলে আউট হন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ২৭ রানে ২টি উইকেট নিয়ে সেরা ছিলেন। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন সাকলাইন, নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমান। আগামী ২১ জুন একই মাঠে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।