যশোর অফিস:
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারকাটি এলাকার বাসিন্দা নার্গিস আক্তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র, প্রাণনাশের হুমকি এবং হয়রানির অভিযোগ এনে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান,২০০৭ সালে বদিয়ার রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তার অভিযোগ, ২০১২ সালে স্বামী বদিয়ার রহমান স্থানীয়দের কাছ থেকে ঋণ এবং তার ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় আত্মগোপন করেন। পরে ক্ষমা চেয়ে যোগাযোগ করলে তিনি ঋণ পরিশোধ করে আবার সংসার শুরু করেন।
নার্গিস আক্তার আরও দাবি করেন, ২০২১ সালে তার স্বামী পুনরায় ঋণ করে পালিয়ে যান এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। ২০২৩ সালে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা সংসার টিকিয়ে রাখার আশ্বাস দিলে তিনি ঢাকায় থাকা কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কোচিং সেন্টার, কাপড়ের দোকান ও পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে শ্বশুরের জমিতে পাঁচতলা ভবনের ফাউন্ডেশনসহ একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করেন।
তার অভিযোগ,বাড়ি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে এবং তার ছেলে খালেদ রহমান আলিফকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। গত ২৯ মার্চ তার স্বামী তাকে তালাক দেন এবং বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতে নারী নির্যাতনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার পরও অভিযুক্তরা নিয়মিত ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। স্থানীয় সালিশে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে উচ্ছেদ না করার সিদ্ধান্ত হলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নার্গিস আক্তার দাবি করেন, তাকে ও তার ছেলেকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ছেলে খালেদ রহমান আলিফকেও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি তার নির্মিত বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ, পাওনা অর্থ পরিশোধ, প্রতারণার বিচার এবং নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।