যশোর অফিস
বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান এবং মুক্তিযুদ্ধের যশোরাঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি আর নেই। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছরের বেশি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন তিনি। গত সোমবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে গত ১২ মে শহরের রেলবাজারস্থ নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার যশোরে ফিরিয়ে আনা হয়।
শুক্রবার সকালে মৃত্যুর পর তার মরদেহ শহরের রেলবাজার এলাকার বাসভবনে নেওয়া হয়। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
আলী হোসেন মনি ছাত্রজীবনে ষাটের দশকে তৎকালীন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন একরামুল কবির। তিনি যশোর মুসলিম একাডেমি থেকে এসএসসি, মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রথম ব্যাচে ভারতের দেরাদুনে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুজিব বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর তিনি জাসদ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে জেলা জাসদের সভাপতি এবং জাসদ (ইনু) এর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে জাসদের বিভিন্ন অংশ একীভূত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নিতেন।
আলী হোসেন মনি যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন প্রয়াত রফিউদ্দিন এবং মা প্রয়াত মনোয়ারা বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, একমাত্র ছেলে ও অন্যান্য স্বজনদের হারিয়েছেন। তার সহধর্মিণী এবং একমাত্র ছেলে রাজেন আলী রাজু আগেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তিনি একমাত্র মেয়ে কানাডাপ্রবাসী ফারজানা আলীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে যশোরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মুক্তিযোদ্ধা মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।