মধ্যপ্রাচ্য ইসুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রবিবারের মধ্যে স্বাক্ষর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম। ওই কর্মকর্তা জানান, স্মারকের ভাষা চূড়ান্তের কাজ এখনো চলছে। লেবাননে চলমান যুদ্ধকেও এই চুক্তিতে রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে ইরান।
আগামীকাল শনিবারের মধ্যে চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজ নিজ দেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্রের বরাতে শুক্রবার (১২ জুন) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানটি আগামী রবিবারের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সময়সূচি অনুযায়ী সবকিছু এগোলে রবিবারই এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি চমৎকার সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে। এছাড়া ইউরোপে একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইরান। কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। শহরটি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনের ভেন্যুর কাছাকাছি হওয়ায় এটি কূটনৈতিকভাবে সুবিধাজনক স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রগুলোর একটির মতে, এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এর পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।
তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকের নাম রাখা হয়েছে ‘ইসলামাবাদ ডিক্লারেশন’। মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চুক্তির নাম, স্বাক্ষরের স্থান কিংবা সময়সূচি কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, জেনেভার পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাকেও সম্ভাব্য স্বাক্ষরস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।