শহিদ জয়,যশোর
যশোরের শার্শায় ট্যুরিস্ট পুলিশের এক সদস্যকে মারধরের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫–৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের কয়েকদিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল গত ৪ জুন শার্শা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, ২৯ মে বিকেলে শ্যামলাগাছি এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে পুলিশ সদস্য মামুন হাসান জুয়েলের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলায় লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা ব্যবহার করা হয়। এতে জুয়েল গুরুতর আহত হন এবং তাকে ঠেকাতে গেলে তার এক স্বজনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পূর্বে তাদের বালুর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং চাঁদা দাবির মতো বিষয়গুলো নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং পুলিশ কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছিল।
এদিকে ঘটনার পর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালালেও স্থানীয়দের বাধার মুখে অভিযান ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে। তবে পুলিশি ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো কোনো আলাদা মামলা হয়নি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের জানান, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।