যশোর অফিস
যশোরে গত কয়েক দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা, বিষাক্ত তরল পান, দোলনা থেকে পড়ে আহত হওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ রোববার (৩১ মে) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
মৃত শিশুর নাম নাজমা (১০ মাস)। সে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার নুর ইসলামের মেয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে থেকে শিশুটি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল।
রোববার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় রেফার করেন। স্বজনদের অভিযোগ, খুলনায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলার শিশু ওয়ার্ড থেকে নিচে নামানোর সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মী নাজমা বেগম শিশুটির নাকে সংযুক্ত অক্সিজেনের পাইপ খুলে বড়দের ব্যবহৃত একটি অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেন।
শিশুটির বাবা নুর ইসলাম অভিযোগ করেন, অক্সিজেন সরবরাহের পদ্ধতি পরিবর্তনের পরপরই তার মেয়ের অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি দাবি করেন, শিশুটির নাকে সংযুক্ত অক্সিজেনের পাইপ পরিবর্তন করা না হলে হয়তো তার সন্তানের মৃত্যু হতো না। এ ঘটনায় শিশুটির কয়েকজন স্বজন হাসপাতালে সাময়িকভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে তারা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যান। এই ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় কিছুটা উত্তেজনায দেখা দিলে পরে তারা শান্ত হয়ে যায়।
এর আগে গত ২৬ মে সন্ধ্যায় যশোর-মাগুরা সড়কের পাঁচবাড়িয়া এলাকায় একটি মোটরভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ডভ্যান। এতে মোটরভ্যানে থাকা কাকলি সুলতানা (২৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি যশোর সদর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের স্ত্রী।
অন্যদিকে, গত ২৯ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে টয়লেট পরিষ্কারক তরল (ভিক্সল) পান করেন মরিয়ম (২৫) নামে এক গৃহবধূ। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত মরিয়ম যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ইসলামের স্ত্রী ও মো.আলী আকবরের মেয়ে।
একই দিনে যশোর সদর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পাগলাদাহ গ্রামের পিয়াস (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে রশির দোলনা থেকে পড়ে আহত হয় সে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর ৩১মে রোববার দুপুরে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পিয়াস ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
এদিকে ২৭ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাগডাঙ্গা ইটভাটার সামনে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও গরুবাহী নসিমনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মজনুর রহমান (৪৫) ও দুলাল (৪০) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত মজনুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কের আব্দুলপুর বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও চার যুবক আহত হন। আহতরা হলেন সুরত গাজী (৩০), শফিকুল (২৩), সাব্বির (১৯) ও রাব্বী (১৯)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা বর্তমানে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক ঘটনাগুলোর বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে ।