বিশেষ প্রতিনিধি:
তীব্র জনবল সংকটের মধ্যেই অতিরিক্ত শয্যা নিয়ে চলছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম। নির্ধারিত ২৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২৯৩ শয্যার সেবা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার পাশাপাশি এখানে ২৮ শয্যার করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), ১০ শয্যার আইসিইউ এবং ৫ শয্যার এইচডিইউ চালু রয়েছে। তবে এসব ইউনিটের জন্য অনুমোদিত জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৫৫০ থেকে ৭৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এর মধ্যে আইসিইউ ও এইচডিইউ বাদ দিলে সাধারণ ওয়ার্ডে থাকেন প্রায় ৬১৫ জন রোগী। এছাড়া সিসিইউতে প্রতিনিয়ত ৪৫ থেকে ৭৫ জন পর্যন্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ১৯৯৮ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে বিভিন্ন ইউনিট চালু হলেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো হয়নি। ২০০৬ সালে স্থানীয় উদ্যোগে ২৮ শয্যার করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু করা হলেও এখনও সেখানে পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
নার্স সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে হাসপাতালে নার্সিং অফিসার রয়েছেন ২২০ জন। অথচ দৈনিক রোগীর চাপ অনুযায়ী প্রয়োজন অন্তত ৪১৮ জন নার্সিং কর্মকর্তা। ফলে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিসিইউ ইউনিটে অনুমোদিত ২৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৬ জন। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনও শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে সিনিয়র কনসালটেন্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট, আবাসিক চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসার পদে ঘাটতি রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যশোর অঞ্চলের হৃদরোগীসহ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত জনবল বৃদ্ধি জরুরি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত হাসপাতালের সিসিইউসহ বিভিন্ন ইউনিটের জনবল সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, হাসপাতালের জনবল সংকটের সুযোগ নিয়ে বহিরাগত কিছু দালাল রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।