যশোর প্রতিনিধি
যশোরে বেসরকারি হাসিনা ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমেনা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় চরম চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আমেনা খাতুন নড়াইল জেলা সদরের চৌগাছা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার স্বামী জিয়াউর রহমান।
পরিবারের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় আমেনা খাতুনকে যশোরের ‘হাসিনা ক্লিনিক’-এ নেওয়া হয়। সেখানে ডা. রানা মিয়া নামে এক চিকিৎসক তার ইকো পরীক্ষা করেন। কিন্তু পরীক্ষার সময় কিংবা পরবর্তী পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা বা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করলে পরে তাকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাসিব এমডি আল হাসান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের পিতা রকিব উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ হলেও ক্লিনিকে কোনো কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিলে হয়তো আমার মেয়েকে বাঁচানো যেত। ইকো করতে গিয়েই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।”
এ ঘটনায় ক্লিনিকের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলাকেই দায়ী করছেন পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসিনা ক্লিনিকের মালিক ডা.মেজবাউর রহমান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “বিষয়টি জেনে জানাবো।” তিনি পরে ফোন করে জানান, রোগীটি বহি বিভাগে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলো পরীক্ষা করার মধ্য অবস্থা খারাপ হওয়ায় দ্রুত রোগীটি যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অবশ্য রোগীর জন্ডিস পরিমাণ বেশি হওয়ায় রোগীটি এধরনে অবস্থা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।