যশোর অফিস
যশোরের বেনাপোল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলা, মারধর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এ মামলা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম শান্তি জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন নারায়নপুর গ্রামের ‘তামান্না ইলেকট্রিক’ নামে সোহাগ হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসামিরা অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। এসময় প্রধান আসামি উজ্জল সোহাগকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং দোকান ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
সোহাগ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অন্যান্য আসামিরা তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। এসময় দোকান থেকে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, রেগুলেটরসহ বিভিন্ন মালামাল এবং ক্যাশে থাকা প্রায় ৬৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া ঘটনাটি আড়াল করতে দোকানের ৬টি সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা সোহাগকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরার পরও আসামিরা তাকে মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রধান সাক্ষী সজিবকে অপহরণ করে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন দাবি করেন, আসামিরা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় প্রতিহিংসার জেরে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সচেতন মহলের সহায়তা কামনা করেছেন।