ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে হত্যা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র!

Share

ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ৩ এপ্রিল ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী এফ-১৫ জেট বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে দুজন পাইলট ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংস হওয়া বিমানের একজন পাইলটকে উদ্ধারের দাবি করলেও তার বিস্তারিত পরিচয় গোপন রেখেছে পেন্টাগন। তবে দ্বিতীয় পাইলটের অবস্থান নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে চরম রহস্য।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নিখোঁজ থাকা ওই পাইলটকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে এখন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মার্কিন সেনারা হন্যে হয়ে তাদের দ্বিতীয় ক্রুকে খুঁজছে। কিন্তু তাকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ দেখে এখন সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে বোমাবর্ষণ করে তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আজ রাতে ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের আহমদ প্রদেশের কোহগিলুয়েহ শহরের বেশ কিছু এলাকায় মার্কিন বাহিনী বোমাবর্ষণ করেছে। ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তাদের নিখোঁজ পাইলট ওই অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছেন অথবা ইরানি বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন। তিনি যেন কোনোভাবেই ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ধরা না পড়েন, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।

তবে নিখোঁজ পাইলট বর্তমানে ইরানি বাহিনীর হেফাজতে আছেন কি না, সে বিষয়ে সামরিক সূত্রটি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সূত্রটি জানায়, প্রথম পাইলটকে উদ্ধারের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ সত্য প্রকাশ করছে না। তাদের মতে, এই ভূপাতিত যুদ্ধবিমান এবং এর পাইলটদের নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি ভবিষ্যতে মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি বা ‘স্ক্যান্ডাল’ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

এই চাঞ্চল্যকর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Read more