৩ এপ্রিল, ২০২৬। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে হঠাৎ আগুনের গোলক হয়ে আছড়ে পড়ে একটি মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ইগল। বিমানে থাকা পাইলট ও এক ক্রুর মধ্যে পাইলট প্যারাসুট দিয়ে নেমে দ্রুত উদ্ধার পেলেও, দ্বিতীয় জন-একজন তুখোড় ওয়েপন সিস্টেম অফিসার-নিখোঁজ হয়ে যান ইরানের বৈরী সীমান্তে। শুরু হয় সময়ের সাথে এক মরণপণ লড়াই।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শত শত সেনা পাহাড়ে পাহাড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু মার্কিন ওই ক্রু অত্যন্ত কৌশলে দক্ষিণ ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের খাড়া পাহাড় আর গুহার আড়ালে আত্মগোপন করে। তার সাথে থাকা অত্যাধুনিক বীকন সিগন্যাল পাঠিয়ে জানিয়ে দিচ্ছিল নিজের অবস্থান, যা কেবল মার্কিন উদ্ধারকারী দলই ট্র্যাক করতে পারছিল।
৫ এপ্রিল, ভোর। ঘুটঘুটে অন্ধকারে আকাশ চিরে ধেয়ে আসে মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের একটি দল। তাদের পাহারায় আকাশে চক্কর দিচ্ছিল শক্তিশালী A-10 ওয়ারথগ এবং MQ-9 রিপার ড্রোন। কমান্ডোরা দড়ি বেয়ে নিচে নামতেই শুরু হয় নরক গুলজার। ক্রুর অবস্থানের কাছে পৌঁছাতেই ইরানি বাহিনীর সাথে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর শুরু হয় মুখোমুখি সংঘর্ষ। মার্কিন সেনারা ক্রুকে ঘিরে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল তৈরি করে। চারপাশ থেকে বৃষ্টির মতো গুলি আর রকেট ছোঁড়া হতে থাকে। আকাশ থেকে মার্কিন ড্রোনগুলো ইরানি বাহিনীর ওপর নিখুঁত হামলা চালিয়ে কমান্ডোদের পালানোর পথ করে দেয়। গুলি বিনিময়ের মধ্যেই ক্রুকে হেলিকপ্টারে তোলা হয়। একটি হেলিকপ্টার ইরানি গুলিতে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি আকাশেই ভারসাম্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
সব বাধা পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই উদ্ধারকারী দলটি ইরানের আকাশসীমা অতিক্রম করে নিরাপদ ঘাঁটিতে পৌঁছে যায়। বর্তমানে সেই ক্রু সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফল মিশনকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ‘সাহসী এবং নিখুঁত’ অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মার্কিন ক্রু ধরা পড়লে সেটার প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল দারুণ উদ্বেগ।
বিশ্লেষকরা বলছিলেন, তেমনটি ঘটলে ওয়াশিংটনের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত।
১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পর ইরানের মার্কিন দূতাবাস থেকে ৫২ জন কর্মীকে জিম্মি করা হয়। এই সঙ্কট সমাধান করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৮০ এর নির্বাচনে তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল ইরান থেকে জিম্মিদের উদ্ধার করতে না পারা।
ট্রাম্পের এমনিতেই দুই মেয়াদ শেষ। ফলে সে আর নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু ক্রু ধরা পড়লে তার ইম্পিচমেন্টের মুখোমুখিও হওয়ার শঙ্কা ছিল।
পাশাপাশি ১৯৭৯ এর সংকটে জিম্মিদের মুক্ত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ফ্রিজ করা ৮ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হয়েছিল।