যশোর অফিস:যশোর কোতোয়ালি থানার আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য বর্তমান ভবনটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে থানার সব কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে শহরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে স্থানান্তর করা হবে। চলতি সপ্তাহেই চৌরাস্তার বর্তমান ভবন থেকে স্থানান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে।
যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে কোতোয়ালি থানার পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ শুরু হতে পারে। এর আগে ৫ এপ্রিলের মধ্যে থানার কার্যক্রম চাঁচড়া ফাঁড়িতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন থানা ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ভবনটি চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে, তবে ভিত্তি থাকবে ছয়তলার উপযোগী করে। এটি হবে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন, যেখানে পুলিশ সদস্যদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
গণপূর্ত বিভাগ জানায়,১৫ শতক জমির ওপর প্রায় ২৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবনটি নির্মিত হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় থাকবে ডিউটি অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষ, অস্ত্রাগার, রিসিভশনসহ বিভিন্ন অফিস। তৃতীয় তলায় নারী পুলিশ সদস্যদের ব্যারাক এবং চতুর্থ তলায় পুরুষ সদস্যদের ব্যারাক ও অফিস থাকবে। ভবনের সামনে রাখা হবে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা।
নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো থানা ভবনের পাশাপাশি কম্পাউন্ডের তিনতলা আবাসিক ভবনও ভেঙে ফেলা হবে। পুরো নির্মাণকাজ শেষ হতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িকে ইতিমধ্যে থানার কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অস্থায়ীভাবে কোতোয়ালি থানার কার্যক্রম চলবে।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান বলেন,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, নতুন ভবন নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে এবং অস্থায়ীভাবে চাঁচড়া ফাঁড়ি থেকেই থানার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম কাজটি পেয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।