যশোর অফিস
কর্মদিবসে কোনো ধরনের ছুটি গ্রহণ না করে প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শাখার একাধিক শাখা ব্যবস্থাপক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। খুলনা-যশোরসহ তিনটি অঞ্চলের এসব কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে ব্যাংকিং মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে যশোর অঞ্চলসহ বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপকরা ভোলা ও মনপুরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অফিস চলাকালীন সময়ে এমন ভ্রমণ শুরুর ঘটনায় দায়িত্ববোধ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় খোঁজ নিয়ে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই দিন সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে যশোরের বাগআচড়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোফাজ্জল হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সেলফি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রার বিষয়টি উল্লেখ করেন। একটি বাসের সিটে বসা অবস্থায় তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ বরিশাল ভোলা, মনপুরা ভ্রমনের জন্য যাত্রা শুরু করলাম’। ওই ছবির পেছনে যারা বসেছিলেন তারা অধিকাংশই বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এরপর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু। ¯
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন যশোর অঞ্চলের জোনাল হেড ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাহাদ আলী, নড়াইল কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক সঞ্জয় সিকদার, যশোর কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন শাখা ব্যবস্থাপক।
এছাড়া খুলনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের জোনাল হেড এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখার ব্যবস্থাপকরা এই সফরে অংশ নেবেন বলে পূর্ব নির্ধারিত ছিলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনার নিউ মার্কেট ও বড়বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ শাখার কর্মকর্তারাও এতে যুক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগআচড়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোফাজ্জল হোসেন প্রথমে দাবি করেন, তিনি যশোর আদালতে একটি মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি জানান, আদালতের কাজ শেষে খুলনায় একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে যশোরে ফিরছিলেন। তবে ফেসকবুকের স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এলোমেলো কথা বলতে থাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ প্রতিবেদক তার সাথে কথা বলছিলেন, তখন তিনি গাড়ীর ভেতরে ছিলেন বলে বুঝা যাচ্ছিলো।
তবে যশোর আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন একজন আইনজীবীর মৃত্যুজনিত কারণে ফুলকোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হওয়ায় আদালতের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে কোনো মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি বলে জানান আইনজীবীরা।
অন্যদিকে খুলনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রোকনুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ভোলা ও মনপুরা ভ্রমণের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি সারাদিন তার কর্মস্থলে ছিলেন। তবে কিছু কর্মকর্তারা খুলনায় একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নজরে এলে সংশ্লিষ্টরা তড়িঘড়ি করে ভ্রমণ বাতিল করে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসেন।
তারা আরও বলেন, পুরো কর্মদিবসেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো প্রকার ছুটি গ্রহণ না করে অফিসের বাইরে অবস্থান করেন, যা ব্যাংকিং শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সামনে রেখে কর্মদিবসে পূর্বঘোষিত ছুটি ছাড়া এ ধরনের ভ্রমণ আয়োজন করায় দায়িত্বশীলতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।