বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদে সারা দেশেই শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কিছু কিছু আসনে নানা অভিযোগ এনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোট পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল (১২ ফেব্রুযারি) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর ফেসবুক লাইভে এসেছে বর্জনের ঘোষণা দেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির সমর্থন পাওয়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন। আসনটিতে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ।
জসিম উদ্দিন ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, অবৈধ টাকা বিতরণ, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বসহ নানা অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এছাড়া অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং জাল ভোট দেওয়া হয়।
আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তবে ঋণখেলাপির দায়ে আদালত তার প্রার্থিতা বাতিল করলে জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেয় বিএনপি।
অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম। তিনি ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আগে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ এনে ভোটগ্রহণের আগের রাতেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মোস্তফা।
দিনাজপুর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুস্তম আলীও ভোট বর্জন করেছেন। গতকাল দুপুরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি ব্যবহার, অর্থ দিয়ে ভোট কেনাবেচাসহ কেন্দ্রগুলোয় তার এজেন্টদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি, জাল ভোট ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে একপেশে আচরণের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) কাজী রেহা কবির সিগমা।